চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের দ্রুত মুক্তি নিয়ে সরব সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায়

সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার ইঙ্গিত দিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী (Nitai Ray Chowdhury)। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দির (Dhakeshwari Temple)-এ আয়োজিত ‘মহানগর পরিবার দিবস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কোন অভিযোগে এতদিন আটক রাখা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আমি খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট জায়গায় এ বিষয়ে কথা বলব।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার দেশের সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরে বলেন, “রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্ম বা সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।”

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামো বহু বৈচিত্র্যে গঠিত—পাহাড়ি জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সমতলের জাতিগোষ্ঠী, উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—সবাই মিলে এই দেশ। এসব সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় স্থান নয়, বরং ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সরকারের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকার নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করে কাজ করে যাচ্ছে। “দেশের বিভিন্ন খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, এমনকি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও নড়বড়ে ছিল। আমরা ধাপে ধাপে সেগুলো সংস্কার করছি,”—যোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে এসে তিনি বিএনপি (BNP)-এর কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অবদান বিএনপির ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দলটি এজন্য কৃতজ্ঞ।” একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশের সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে, তাই সরকারকে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সমানভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেবের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka)-এর জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পালসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *