জামায়াতে ইসলামী’র ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের উদ্যোগ, শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। দলটির একটি বিশেষজ্ঞ টিম ইতোমধ্যেই এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ছায়া মন্ত্রিসভার কাঠামো গড়ে উঠবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে।

এ বিষয়ে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (Ehsanul Mahbub Jubayer) জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে আরও এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।

তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কথিত ছায়া মন্ত্রিসভার তালিকা ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে সৃষ্টি হয় বিভ্রান্তি। ভাইরাল সেই তালিকায় দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman)-কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু দলীয় নেতারা এই তালিকাকে পুরোপুরি গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্পষ্টভাবে বলেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হয়নি এবং অনুমোদনহীন কোনো তথ্যকে সঠিক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ধারণাটি নতুন করে আলোচনায় আসে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ শিশির মনির (Mohammad Shishir Monir)-এর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের মাধ্যমে। সেখানে তিনি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিকল্প মন্ত্রিসভা গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিয়ে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান নিশ্চিত করার পর সরকারকে কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ এবং বিকল্প নীতিমালা উপস্থাপনের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ একটি প্রতিষ্ঠিত ধারণা। এটি ক্ষমতাসীন সরকারের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে এই ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য একাধিক নেতার নাম উল্লেখ থাকলেও দলটির পক্ষ থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলমান প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওই তালিকার কোনো সম্পর্ক নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *