পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান (Dr. Khalilur Rahman) স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান খুঁজতে হলে দৃষ্টি ফেরাতে হবে রাখাইন রাজ্যের দিকেই। তাঁর মতে, শুধু মানবিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয়, সমন্বিত ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ গড়ে ওঠে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তুরস্ক (Turkey)-এ চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম–২০২৬ (Antalya Diplomacy Forum 2026)-এর ‘Global Refugee Protection System in the Face of Displacement Crisis’ শীর্ষক সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। আলোচনার মঞ্চে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুর জটিলতা ও দীর্ঘস্থায়ী চরিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ঘাটতির বিষয়টি সামনে আনেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে। তাঁর ভাষায়, এই সংকট কেবল মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে সমাধান সম্ভব নয়। বরং প্রয়োজন অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইন রাজ্য (Rakhine State)-এ স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন।
তিনি আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার (Myanmar) সরকার এবং আরাকান আর্মি (Arakan Army)—উভয় পক্ষই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক যোগাযোগের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট অমীমাংসিত নয়; বরং এটি একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা। তবে সেই সমাধান বাস্তবায়নে প্রয়োজন শক্তিশালী বৈশ্বিক উদ্যোগ, আন্তরিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—যা ছাড়া এই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের কোনো স্থায়ী পরিণতি সম্ভব নয়।


