১০ ঘণ্টারও বেশি লাইনে দাঁড়িয়ে তেল, জীবন-জীবিকায় বাড়ছে চাপ

একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত নাঈম হাওলাদারের দিনটি এখন আর শুধু কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—তার বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করেও তিনি তেল পাননি। পরদিন শনিবার আবারও প্রায় ৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে অকটেন সংগ্রহ করতে সক্ষম হন তিনি।

এ চিত্র শুধু নাঈমের নয়, পুরো ঢাকা (Dhaka) শহরের প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে যেন একই বাস্তবতা। পাঠাও চালক, চাকরিজীবী কিংবা ছোট ব্যবসায়ী—যারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, তাদের দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশ এখন তেলের লাইনে অপেক্ষা করেই কাটছে। ফলে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহেও পড়ছে সরাসরি প্রভাব।

শুধু মোটরসাইকেল আরোহীরাই নন, প্রাইভেট কার চালকরাও কম ভোগান্তিতে নেই। অনেককে টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা, কখনো তারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। যেন এটি এখন নিয়মিত রুটিনে পরিণত হয়েছে।

রাজধানীর মেঘনা, সোনার বাংলা, তালুকদার ও ট্রাস্টসহ কয়েকটি বড় ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ চলছে। এসব পাম্পে ভিড় সামাল দিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাম্প কর্তৃপক্ষ ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে, যাতে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু ভোক্তাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলছে। তাদের মতে, যদি সংকট না-ই থাকে, তবে কেন রাজধানীর অধিকাংশ স্টেশনে তেল পাওয়া যাচ্ছে না? কেন কেবল বড় কয়েকটি স্টেশনেই সীমাবদ্ধ থাকছে সরবরাহ?

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে গিয়ে প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, বাড়ছে মানসিক চাপ। সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ আশার কথা শুনিয়েছেন। তাদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে এবং পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *