ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অবরোধ নীতির অংশ হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন (Pentagon), যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেন্টাগন জানায়, মার্কিন বাহিনী ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় ‘এম/টি টিফানি’ নামের একটি রাষ্ট্রহীন ও নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজে অভিযান চালায়। গত রাতে পরিচালিত এই অভিযানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই জাহাজটিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
পেন্টাগনের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, হেলিকপ্টার থেকে মার্কিন সেনারা একটি উজ্জ্বল কমলা রঙের বিশাল জাহাজে অবতরণ করছে এবং দ্রুত অভিযান পরিচালনা করছে। যদিও অভিযানের সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি, তবে ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের বিস্তৃত অঞ্চল তদারকি করে থাকে।
এই অঞ্চলটি পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালির বাইরে, যা সাধারণত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাভুক্ত। পেন্টাগন তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে না।
বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP) নিশ্চিত করেছে, জব্দ করা জাহাজটি ইরানের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। ফলে এই অভিযানকে বৃহত্তর কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর আগে রোববার (১৯ এপ্রিল) ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজও জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, জাহাজটি নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। সতর্কতা অমান্য করলে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজ থেকে গু’\লি চালানো হয়, যা জাহাজটির ইঞ্জিনরুমে আঘাত হানে। এতে জাহাজটির চলাচল অক্ষম হয়ে পড়ে।
পরপর এমন অভিযানে স্পষ্ট হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


