সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে শোকজ করেছে হল প্রশাসন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী ছাত্রশিবিরের ২০২৫ সেশনের বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রশিবিরের সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি এআই-সম্পাদিত বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ছবিটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর উপস্থাপন করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল (Jatiyatabadi Chhatra Dal)-এর নেতারা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তবে অভিযুক্ত মাহমুদ নিজের ফেসবুক আইডিতে দাবি করেছেন, তিনি ওই পোস্টের সঙ্গে জড়িত নন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। সদস্য সচিব করা হয়েছে একই হলের আবাসিক শিক্ষক জাওয়াদ ইবনে ফরিদকে। এছাড়া কমিটির অপর সদস্য হিসেবে রয়েছেন আইসিটি বিশেষজ্ঞ ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মোসাদ্দেক খান।
কমিটি ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৩ এপ্রিল রাতে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হলের অভ্যন্তরে দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। পাশাপাশি সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


