দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সংসদীয় কার্যক্রম এবং জনজীবনের ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম (Mahfuz Alam)। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে রাষ্ট্র পরিচালনার নানা অসঙ্গতি, যা ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা সংস্কার ও বিচারের আলোচনা হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেল? তাঁর মতে, রাষ্ট্র সংস্কার বা ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখন আর অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। বরং রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘ভাগ-বাটোয়ারা’।
মাহফুজ আলম সরাসরি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দল ও সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ড এখন জনগণের বাস্তব সংকট থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকের মৃ’\ত্যু ঘটছে, আর একের পর এক লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। অথচ এসব গুরুতর বিষয় রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে চলে গেছে।
এছাড়া হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের মৃ’\ত্যু, অর্থনীতির নাজুক অবস্থা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এমন সংকটময় সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বশীলদের আরও সংবেদনশীল হওয়া জরুরি ছিল, কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সংসদের ভেতরে ও বাইরে চলমান কার্যক্রমকে তিনি ‘বাটোয়ারার রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তীব্র ভাষায় প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “দুপুরে এক পক্ষ মা’\রবে, রাতে আরেক পক্ষ মা’\রবে—এভাবেই কি জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হবে?”
সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তাঁর মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে এমপিরা প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট করছেন। স্থানীয় সরকারের অফিস এমপিদের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া এবং তাদের জন্য নতুন গাড়ি ও বিলাসিতার ব্যবস্থা—এসবকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
সব মিলিয়ে, তাঁর এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে, যেখানে জনগণের মৌলিক সমস্যা ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট হয়ে উঠছে।


