বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (Civil Aviation Authority of Bangladesh) বা বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, বহু প্রতীক্ষিত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এখন কেবল অপারেশনাল প্রস্তুতি—আর সেটিও আগামী ১২ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (ATJFB)–এর সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ সামনে আসেনি। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসিই ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে, ফলে যন্ত্রপাতি বা অবকাঠামোগত ত্রুটির ঝুঁকি কম থাকবে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও টার্মিনালকে প্রস্তুত রাখার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন বেবিচক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ইন্টারনেট সংযোগে কোনো সমস্যা হবে না। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম অপারেটর টেলিটক (Teletalk)-এর সঙ্গে বেসরকারি অপারেটরগুলো যৌথভাবে কাজ করবে। নেটওয়ার্ক সেবার পাশাপাশি জায়গা ভাড়ার বিষয়েও টেলিটক চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, চলতি বছরের জুন মাস থেকেই থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ শুরু হবে। এই পরিশোধ কার্যক্রম চলবে ২০৫৬ সাল পর্যন্ত। প্রতিবছর আনুমানিক ৮০০ থেকে ৮৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টার্মিনালের পরিচালন ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন তিনি। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশ বিমান (Biman Bangladesh Airlines)-এর সঙ্গে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করবে। কোন প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত হবে, তা নির্ধারণ করবে জাপানের সুমিতোমো কোম্পানি (Sumitomo Corporation)।
উল্লেখ্য, প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই তৃতীয় টার্মিনাল ২০২৩ সালে আংশিক উদ্বোধন করা হলেও বাস্তবে চালু করা যায়নি। বেবিচক চেয়ারম্যানের দাবি, আগের দুই সরকারের সময় নানা জটিলতায় প্রকল্পটি কার্যকর হয়নি। তবে বর্তমান সরকার অংশীদারদের স্বার্থ সমন্বয় করে দ্রুত এই টার্মিনাল চালু করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।


