নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে সামনে রেখে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সুরক্ষা জোরদার করতে ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে—এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান (Tarique Rahman)।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ায় নারী ও শিশুকে টেকসই উন্নয়নের সমঅংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ দেশ পায়। তিনি জানান, নারী ও শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Ministry of Women and Children Affairs)-এর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে।
এই কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি), গর্ভবতী মা ও শিশুর পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি, আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ, এবং নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণনের জন্য জয়িতা ফাউন্ডেশন (Joyita Foundation)-এর উদ্যোগ।
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধেও সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি জাতীয় টোল-ফ্রি হেল্পলাইন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি এবং ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের সহায়তা দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো, প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, টিকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানসম্মত প্রশিক্ষণ, নগদ সহায়তার পাশাপাশি জীবিকা সহায়তা এবং শহর-গ্রামভিত্তিক পৃথক উন্নয়ন মডেল চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা বৃদ্ধি এবং তাদের পণ্যের বিপণন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ, তাই তাদের বিকাশে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি (Bangladesh Shishu Academy) সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ, জাতীয় শিশু পুরস্কার, চলচ্চিত্র নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পথশিশু পুনর্বাসনের আওতায় বর্তমানে ২টি আবাসিক কেন্দ্রে ১৫১ জন শিশুকে থাকা, খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি রয়েছে ৯টি আউটরিচ স্কুল।
কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের জন্য ৬৪টি দিবাযত্ন কেন্দ্র চালু রয়েছে, যেখানে সুষম খাবার, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। এছাড়া শিল্পকারখানা ও কর্মস্থলে ডে-কেয়ার এবং ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ স্থাপনের বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারেও গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি।


