ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট (High Court)। এই নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়ন যাচাইয়ের জন্য নতুন করে তারিখ নির্ধারণ করেছে, যা এখন নির্ধারিত হয়েছে আগামী ২ মে (শনিবার)।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সচিবালয়ের রিটার্নিং অফিসার মো. মঈন উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র পুনরায় গ্রহণ ও বাছাই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোছা. নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি—যিনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের বাসিন্দা এবং পিতা মোহাঃ আব্দুল হালিম—সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে বিষয়টি পরবর্তীতে আদালতে গড়ায়, যেখানে তিনি রিট পিটিশন (নম্বর: ৫০২২ অফ ২০২৬) দায়ের করেন। সেই রিটের শুনানি শেষে গত ২৭ এপ্রিল আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও যথাযথভাবে বাছাই করার নির্দেশ দেয়।
এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ মে সকাল ১১টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে (কক্ষ নম্বর-৫০৪) মনোনয়নপত্র বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় প্রার্থী নিজে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি তার প্রস্তাবক ও সমর্থকদেরও উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, হাইকোর্টের এই আদেশ শুধু নির্বাচন কমিশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের বিলম্ব না ঘটে।
পুরো প্রক্রিয়াটি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে, কারণ আদালতের হস্তক্ষেপের ফলে একজন প্রার্থীর মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে—যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইনি নজরদারির গুরুত্বকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।


