শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ শুক্রবার (১ মে)। দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবটি সাড়ম্বরে উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশের বৌদ্ধ বিহারগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে বুদ্ধ পূজা, প্রদীপ প্রজ্বলন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রভাত ফেরি ও সমবেত প্রার্থনার মতো নানা কর্মসূচি। একই সঙ্গে মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন রাখা হয়েছে।
দিবসটি ঘিরে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (Mohammad Shahabuddin) এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, মহামতি বুদ্ধ আজীবন একটি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। তার ‘অহিংস পরম ধর্ম’ বাণী আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বর্তমান অশান্ত ও সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত বিভাজন রোধে বুদ্ধের দর্শন কার্যকর পথ দেখাতে পারে বলেও তিনি মত দেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধ মানবকল্যাণে আজীবন অহিংসা, সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করেছেন। তার শিক্ষা শান্তি, সহনশীলতা, করুণা ও মানবিকতার চিরন্তন নির্দেশনা বহন করে। যখন বিশ্বজুড়ে সংঘাত, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা ক্রমশ বাড়ছে, তখন বুদ্ধের সহমর্মিতা ও শান্তির বাণী নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিলাভ এবং নির্বাণ লাভের স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বৌদ্ধ বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই বৈশাখী পূর্ণিমাতেই মহামতি গৌতম বুদ্ধ (Gautama Buddha) জন্মগ্রহণ করেন, বোধিজ্ঞান লাভ করেন এবং মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। এ কারণেই বৈশাখী পূর্ণিমা ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ নামে পরিচিত।
‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’—এই মানবতাবাদী ও অহিংস বাণীর আলোতেই দিনটি পালন করেন বুদ্ধ ভক্তরা। ভোরবেলা ত্রিপিটকের পবিত্র শ্লোক পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর বিহারগুলোর চূড়ায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এ উপলক্ষে জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকগুলো বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশন (BTV) ও বাংলাদেশ বেতার (Bangladesh Betar)সহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে।
এদিকে বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশন (Bangladesh Buddhist Federation) মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সেখানে একটি আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
রাজধানীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, কুমিল্লা, বরগুনা, রংপুর ও সিলেটের বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হবে।


