ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অন্দরমহলের একাধিক আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে রাশেদ খাঁন (Rashed Khan) সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে দেওয়া সেই পোস্টে তিনি দাবি করেন, আসিফ মাহমুদের জন্য ঢাকা-১০ আসন ছাড়িয়ে নিতে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় আসিফ মাহমুদ (Asif Mahmud)-কে ঢাকা-১০ আসন ছাড়তে রাজি হয়নি জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)। বরং তার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে দায়িত্ব পালনকালীন অভিযোগগুলো সামনে আনা হয়। বিষয়টি এতদূর গড়ায় যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) নিজেই জামায়াতের আমীরকে ফোন করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। কিন্তু সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
একইসঙ্গে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, শুধু জামায়াত নয়, বিএনপিও শেষ পর্যন্ত আসিফ মাহমুদকে ওই আসন ছেড়ে দেয়নি। ফলে রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাকে নতুন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এনসিপিতে যোগ দিতে হয়েছে।
পরবর্তী অংশে তিনি আরও একটি সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টানেন। তার অভিযোগ, এনসিপির সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই জামায়াত ভিপি সাদিক কায়েমকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করেছে। এতে জোট রাজনীতিতে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন—এ নিয়ে এনসিপি কি জামায়াতকে ‘মুনাফেক’ বলবে?
রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, তিনি বিষয়টিকে শুধু রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং সম্পর্কের টানাপোড়েনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সাহসী মুখ হিসেবে পরিচিত আসিফ মাহমুদকে ঘিরে এমন অবস্থান ‘বিস্ময়কর’।
তিনি আরও লেখেন, সরকারের অংশ হওয়াই আসিফ মাহমুদের জন্য একধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। জামায়াত এনসিপিকে গুরুত্ব দিলেও, আসিফকে ঘিরে বিতর্কের দায় নিতে অনাগ্রহী বলেই তার ধারণা।
শেষাংশে কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেন, “খেলা যে কোন লেভেলে চলছে… তুমি আমাকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি হিসেবে অধ্যাদেশ পাশ করাতে ভোট দিবা, আর আমি কেন খেলবো না! হ্যাঁ, এটাই জামায়াত! পুরোপুরি খেলে দিলো…..”
এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—বিশেষ করে জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নে।


