বাসিয়া নদী পুনঃখননের সূচনা: কোদাল হাতে উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman)-এর স্মৃতিবিজড়িত সিলেটের বাসিয়া নদী পুনঃখনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। শনিবার (২ মে) বেলা ১টা ২০ মিনিটে বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে তিনি নিজেই কোদাল হাতে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন—যা উপস্থিত মানুষের মধ্যে প্রতীকী এক বার্তা ছড়ায়।

সিলেট (Sylhet) শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কাশিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বাসিয়া নদীটি সুরমা নদী (Surma River)-এর সঙ্গে সংযুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জলধারা। দীর্ঘদিনের অবহেলায় নাব্যতা হারিয়ে এটি প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল।

উদ্বোধনের পর এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বাসিয়া নদী বা খালটি ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। সময়ের ব্যবধানে এটি ভরাট হয়ে অচল হয়ে পড়ে। আমরা এটিকে আবারও সচল করতে চাই।”

পুনঃখননের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৮০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। পাশাপাশি আরও দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষ সুবিধা পাবেন। খালের দুই পাড়ের জমিতে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, “শুধু এই একটি খাল নয়—সারাদেশে এ ধরনের বহু খাল পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ খাল সংস্কার কৃষকদের জন্য এক বড় সহায়তা।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ৬০টি স্থানে খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে। বাসিয়া নদীর এই প্রকল্প সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ। মোট ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা খালের মধ্যে ২৩ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে।

তবে কাজটি একসঙ্গে শেষ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। “এই ২৩ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন করতে আমাদের অন্তত দুটি শুষ্ক মৌসুম লাগবে। এখন বর্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় কাজ সাময়িকভাবে থামবে। আগামী নভেম্বর থেকে আবার শুরু করে আগামী বছরের মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা থাকবে।”

প্রকল্পের একটি পরিবেশবান্ধব দিকও তুলে ধরেন তিনি। খালের দুই পাড়ে ২৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথা জানান। এতে একদিকে খালের পাড় মজবুত হবে, অন্যদিকে এলাকাবাসীর জন্য তৈরি হবে সবুজ বিশ্রামস্থল। পাশাপাশি ফলদ গাছ লাগানোর মাধ্যমে স্থানীয়দের পুষ্টির দিকটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খনন করা এই খালটি কুশিয়ারা নদী (Kushiyara River)-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ গড়ে তুলেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ভরাট হয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় (Ministry of Water Resources) এই পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *