সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-র গাড়িবহরে হা’\মলা মামলার এক আসামিকে সাংগঠনিক পদ দেওয়াকে ঘিরে ফেনীতে দলীয় শৃঙ্খলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করা হয়েছে, পাশাপাশি ফেনী জেলা যুবদলের কমিটিও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে ২০১৭ সালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হা’\মলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি এনামুল হক ওরফে সুজনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়।
এই সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এর জেরেই ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয়তাবাদী যুবদল (Jatiyatabadi Jubo Dal)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
এদিকে, এ বিষয়ে জানতে ফেনী জেলা যুবদলের সদ্য স্থগিত কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক নঈম উল্যাহ চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।
এর আগে রোববার দুপুরে একই কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রকাশিত আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌরসভার সদ্য ঘোষিত ১২টি ওয়ার্ড কমিটি বাতিল করা হয়। পাশাপাশি পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল। একই বিজ্ঞপ্তিতে হা’\মলা মামলার আসামি গাজী এনামুল হক ওরফে সুজনকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীর মহিপাল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হা’\মলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সাত বছর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফেনী (Feni)-র যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন এই ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর দায়ের করা মামলার এজাহারে ২৮ জনকে আসামি করা হয়, যেখানে এনামুল হক সুজনের নাম ২৫ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


