রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত হ’\ত্যা’\কাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি তুলেছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ (Shaykh Ahmadullah)। একই সঙ্গে তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলমান কাঠামোগত বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ বিষয়ে সরব হন। সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে আহমাদুল্লাহ লেখেন, “৫ মের হ’\ত্যা’\কাণ্ডের বিচার নিশ্চিত হোক। ইসলামের বিরুদ্ধে কাঠামোগত বিদ্বেষের পথ চিরতরে বন্ধ হোক।” তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে বহুদিনের অমীমাংসিত সেই ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়া।
এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal) শাপলা চত্বরের এই হ’\ত্যা’\কাণ্ডের তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতির তথ্য দিয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম (Aminul Islam) মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, তদন্তে উঠে এসেছে তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টতার বিষয়।
তিনি জানান, এই ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই মামলায় শেখ হাসিনাকেই প্রধান আসামি করার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সংস্থা পুরো ঘটনাটিকে একটি সুপরিকল্পিত হ’\ত্যা’\কাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ইতোমধ্যে তদন্তকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে শাপলা চত্বর (Shapla Chattar)-এ হেফাজতে ইসলাম (Hefazat-e-Islam) এর সমাবেশে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত অনুযায়ী, সারা দেশে ওই ঘটনায় অন্তত ৫৮ জন নি’\হত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ৩২ জনকে হ’\ত্যা করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার দীর্ঘ সময় পরও বিচার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন রয়ে গেছে। নতুন করে তদন্ত অগ্রগতি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।


