মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন (Ishraq Hossain) দাবি করেছেন, পতিত আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে একক কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং নিজেদের নানা অপকর্ম ঢাকতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ (Munshiganj) জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, বর্তমানে যারা প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে রয়েছে, ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা জানতে সেই সময়কার পত্রপত্রিকার কাটিংই যথেষ্ট।
তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, যারা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছে এবং নিজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল, এমনকি পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়ে হ’\ত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে— আজ তারাই জাতীয় সংসদে জায়গা করে নিয়েছে। এই বাস্তবতাকে তিনি সবার সম্মিলিত ব্যর্থতা হিসেবেই উল্লেখ করেন।
ইশরাক হোসেন জোর দিয়ে বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কোনোদিনই বাংলাদেশকে নিজেদের মতো করে দখল ও পরিচালনা করতে পারবে না। যতদিন মানুষ বেঁচে থাকবে, ততদিন এই লড়াই চলবে— ১৯৭১ সালের মতোই সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা করেছে এবং চারটি ‘ভুয়া’ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে ছিল। তার ভাষায়, জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে এবং গু’\ম, খু’\ন, লুটপাট, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে এবং রাজনৈতিক বিভাজন গভীর করেছে, যার ফলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে তিনি এই দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইশরাক হোসেন স্মরণ করেন, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party) সরকার ক্ষমতায় এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-এর উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে এবং মুক্তিযুদ্ধের যথাযথ মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তার আন্তরিকতা সবচেয়ে বেশি।
তার বক্তব্যে আগের সরকারের সময়কার বিভিন্ন অনিয়মের কথাও উঠে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অ-মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করা, বীর নিবাস নির্মাণে অনিয়ম এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি না করার মতো ঘটনা ঘটেছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম (পিপিএম), জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহবুবের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস ধীরন, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান ও আবু বক্কর মাদবর।
পরে প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন পরিদর্শন করেন। এর আগে তিনি গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন।


