দেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ এক অগ্রগতির বার্তা এলো—দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (Eastern Refinery PLC)। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকাল থেকে শোধন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) প্রতিষ্ঠানটির উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মামুনুর রশীদ খান (Mamunur Rashid Khan) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি একটি অপরিশোধিত তেলের চালান দেশে এসে পৌঁছেছে, যা শোধন কার্যক্রম পুনরায় চালুর পথ সুগম করেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার পর থেকেই উৎপাদন শুরু হবে।
প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন তেল পরিশোধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শুরুতে কারিগরি সমন্বয়ের কারণে উৎপাদন কিছুটা সীমিত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ধীরে ধীরে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরব (Saudi Arabia) থেকে আসা ‘এমটি নাইনেমিয়া’ (MT Nainemia) নামের জাহাজটি বুধবার কক্সবাজারের কুতুবদিয়া (Kutubdia, Cox’s Bazar) উপকূলে নোঙর করেছে। এতে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যা শোধনাগারের জন্য একটি বড় জ্বালানি সরবরাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানায়, বর্তমানে মজুত থাকা অপরিশোধিত তেল দিয়ে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত শোধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, চলতি মাসের ২০ তারিখের পর আরও একটি নতুন চালান আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করবে।
সূত্র আরও উল্লেখ করে, যদি সৌদি আরব থেকে ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে নতুন চালান লোডিং সম্পন্ন হয়, তাহলে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না। ওই চালানেও প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল থাকতে পারে, যদিও তা নির্ভর করবে জাহাজের বহনক্ষমতার ওপর।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত (Md. Sharif Hasnat) জানান, ৬ মে দেশে একটি নতুন তেলের চালান এসে পৌঁছেছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ মে থেকেই শোধন কার্যক্রম সর্বোচ্চ সক্ষমতায় শুরু করা হবে। তার এই ঘোষণায় জ্বালানি খাতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।


