ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ‘বাংলাওয়াশ’ করার পর আইসিসি র্যাঙ্কিংয়েও ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ (Bangladesh)। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ভারতকে টপকে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনে পাকিস্তান (Pakistan)-কে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। এই ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশের পর আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে সাত নম্বরে উঠে এসেছে টাইগাররা। বাংলাদেশের বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৭৮। টেস্ট ইতিহাসে সাধারণত ৯ বা ১০ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটিই এখন পর্যন্ত সেরা অবস্থান।
বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান। দুই ধাপ পিছিয়ে শান মাসুদের দল নেমে গেছে আট নম্বরে। তাদের বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৭৫। পাকিস্তানের পতনে এক ধাপ এগিয়ে ছয় নম্বরে উঠেছে শ্রীলঙ্কা, তাদের রেটিং ৮৬। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক ধাপ পিছিয়ে ৬৮ রেটিং নিয়ে ৯ নম্বরে নেমেছে।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ১৩১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া (Australia)। এরপর রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। ১০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দশ নম্বরে আছে জিম্বাবুয়ে।
মিরপুরের পর সিলেটেও দাপট ধরে রেখে ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো দলটিকে হোয়াইটওয়াশ করেছে টাইগাররা। ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পঞ্চম দিনে ৩৫৮ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।
চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। শেষ দিনে জয়ের জন্য তাদের দরকার ছিল ১২১ রান, আর বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩ উইকেট। দিনের শুরুতে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ক্যাচ স্লিপে মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। জীবন পেয়ে সাজিদ খানকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়েন রিজওয়ান।
অবশেষে ম্যাচের ৯৬তম ওভারে সাজিদ খানকে ২৮ রানে ফেরান তাইজুল ইসলাম (Taijul Islam)। স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচে পরিণত করে তিনি টেস্টে নিজের ১৮তম ফাইফার পূর্ণ করেন।
পরের ওভারেই পেসার শরীফুল ইসলাম বড় আঘাত হানেন। সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ান ৯৪ রানে মিরাজের ক্যাচে ফেরেন। শেষ উইকেটে খুররম শাহজাদকে তানজিদ হাসানের ক্যাচ বানিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ করেন তাইজুল। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন এই বাঁহাতি স্পিনার।


