৩০০ আসন সংরক্ষিত রেখে নারীদের জন্য সরাসরি ভোটের সুপারিশ

জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৩০০ আসন সংরক্ষিত, সরাসরি ভোটের সুপারিশ

জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৩০০টি আসন সংরক্ষিত রেখে সেসব আসনে সরাসরি নির্বাচনের সুপারিশ করতে যাচ্ছে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন (Women’s Reform Commission)। এর ফলে সংসদের মোট আসনসংখ্যা ৬০০ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আইন সংশোধনের দাবিও উঠে এসেছে সুপারিশে।

সম্পত্তি, অভিভাবকত্ব ও বিয়েবিচ্ছেদে সমান অধিকারের সুপারিশ

সবচেয়ে আলোচিত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক আইন পরিবর্তনের প্রস্তাব। এতে সম্পত্তি, সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত এবং বিয়ে-বিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়ে সব ধর্মের নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব না হলে নির্বাচন অযোগ্য ঘোষণা

সুপারিশে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) (Representation of the People Order – RPO) অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের প্রতিটি স্তরের কমিটিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দলগুলোকে নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান রাখতে বলা হয়েছে।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক (Shireen Parveen Haque)

কমিশনের প্রতিবেদন দাখিল ও মেয়াদ বৃদ্ধি

কমিশনের প্রতিবেদন ৩০ মার্চ জমা দেওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ এক মাস বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। এই কমিশনসহ আরও চারটি সংস্কার কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংসদের আসন সংখ্যা ৬০০ করার প্রস্তাব

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা ৩০০ থেকে ৬০০ করা উচিত। এর মধ্যে ৩০০ আসন সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য খোলা থাকবে এবং ৩০০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রেখে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নারী অধিকার রক্ষায় সিডও সনদ অনুসরণ

বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে সিডও সনদ (CEDAW – Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women) অনুমোদন করলেও এখনো ২ ও ১৬.১(গ) ধারার ওপর সংরক্ষণ রেখেছে। কমিশনের সুপারিশে এই সংরক্ষণ প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব

সুপারিশে বলা হয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পোশাকশ্রমিকসহ সব কর্মজীবী নারীর জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করা উচিত। বর্তমানে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীরা ছয় মাস ছুটি পেলেও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখনো এই সুবিধা দেয় না।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ

  • নারী অধিকার কমিশন গঠন
  • বাল্যবিবাহে বিশেষ বিধান বাতিল
  • সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন

কমিশনের সদস্যরা

কমিশনটি ১০ সদস্যের, যার মধ্যে রয়েছেন:
মাহীন সুলতান (Maheen Sultan) – ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জ্যেষ্ঠ ফেলো
ফৌজিয়া করিম ফিরোজ (Fawzia Karim Firoz) – বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি
কল্পনা আক্তার (Kalpona Akter) – বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি
হালিদা হানুম আখতার (Halida Hanum Akhter) – নারী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
সুমাইয়া ইসলাম (Sumaiya Islam) – বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক
নিরুপা দেওয়ান (Nirupa Dewan) – জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য
কামরুন নাহার (Kamrun Nahar) – নারীপক্ষের পরিচালক
ফেরদৌসী সুলতানা (Ferdousi Sultana) – এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ সামাজিক উন্নয়ন উপদেষ্টা
নিশিতা জামান নিহা (Nishita Zaman Niha) – শিক্ষার্থী প্রতিনিধি

Show Comments