সিলেটে সাবেক মেয়রের বাসায় হামলা, আরও দুই নেতার বাড়িতেও ভাঙচুর
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (Md. Anwaruzzaman Chowdhury)-এর বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে আরও দুই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতেও হামলা হয়েছে। বুধবার বিকেলে নগরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের পর এই হামলা চালানো হয়।
সংঘবদ্ধ হামলার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নগরের পাঠানটুলা এলাকায় আনোয়ারুজ্জামানের বাড়িতে ৭০-৮০টি মোটরসাইকেলে করে শতাধিক যুবক আক্রমণ চালায়। তারা বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে। ওই বাড়িতে আনোয়ারুজ্জামানের পরিবার থাকে না, শুধু দুজন তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।
হামলার পর দেখা যায়, ঘরের দরজা-জানালা, চেয়ার-টেবিল, ফ্রিজ, এসি, সিসি ক্যামেরা—সবকিছু ভাঙচুর করা হয়েছে। কাচ ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, আসবাবপত্রও এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
হামলার কারণ ও অভিযোগ
একটি সূত্র জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে সাতটায় ছাত্রলীগের ব্যানারে ৩০-৪০ জন তরুণ ধোপাদিঘিরপাড় এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে। এতে ছাত্রদল (Chhatra Dal)-এর কিছু কর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতার বাড়িতে হামলা চালায়। কমপক্ষে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন যে, হামলায় ছাত্রদলের কর্মীদের জড়িত থাকতে দেখেছেন।
পুলিশি তদন্ত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সিলেট মহানগর ছাত্রদল (Sylhet Metropolitan Chhatra Dal)-এর সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সিলেট মহানগর বিএনপি (Sylhet Metropolitan BNP)-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন, ‘আমি শ্রীমঙ্গলে ছিলাম, তাই বিষয়টি জানি না। তবে বিএনপি কখনো হিংসাত্মক রাজনীতি করে না। যদি হামলা হয়ে থাকে, তা সমর্থনযোগ্য নয়।’
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।’
হামলার শিকার অন্য দুই নেতা
হামলার শিকার বাকি দুই নেতা হলেন শফিউল আলম চৌধুরী ও রুহেল। সূত্র জানায়, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বর্তমানে লন্ডনে, শফিউল আলম চৌধুরী ভারতের কলকাতায় এবং রুহেলও দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।