রমজানের বাজার ও ঈদযাত্রা নিয়ে মাসুদ কামালের মূল্যায়ন
সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল (Masud Kamal) তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রতি রমজানের বাজার এবং ঈদযাত্রা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, হাসিনা সরকার (Hasina Government) বিগত ১৫ বছরে কখনোই রমজানের বাজারে স্বস্তি দিতে পারেনি, তবে এবার কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে।
রমজানে অতীতের চিত্র ও বর্তমান অবস্থা
মাসুদ কামাল বলেন, “রমজানের সময় আমরা বরাবরই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখেছি। মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হতো, যার ফলে সাধারণ মানুষ কষ্ট পেত। কিন্তু এবারের রমজানে তেমন চিত্র দেখা যায়নি। চাল ও তেলের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও, অন্যান্য পণ্যের দাম মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) শাসনামলে কখনোই রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ে স্বস্তি দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও যদি বিচার করেন, তাহলে তারাও স্বীকার করবেন যে, অতীতে এমন পরিস্থিতি কখনো ছিল না।”
বাজার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ও সরকারের ভূমিকা
এবারের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “এইবার সরকার প্রধানকে জনগণকে শেখাতে হয়নি কিভাবে বেগুনি বানাতে হয়, বা পেঁয়াজ কিভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। মানুষ এবার এসব পণ্য সহজেই পেয়েছে। কিন্তু চালের দাম বেড়েছে, যখন সারা বিশ্বে চালের দাম কমছে। এটা কেন হলো, সেটা সরকারের দেখা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তবে বাজারে চাঁদাবাজি ছিল না, যা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। চাঁদাবাজি না থাকায় এবার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল ছিল এবং সরকার এর কৃতিত্ব পেতে পারে।”
ঈদযাত্রার ইতিবাচক পরিবর্তন
এবারের ঈদযাত্রা নিয়ে মাসুদ কামাল (Masud Kamal) বলেন, “এবারের ঈদযাত্রা ছিল বিস্ময়করভাবে স্বস্তিদায়ক। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের হাহাকার ছিল না, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিও হয়নি। এটি আমাদের দেশে আগে কখনো দেখা যায়নি।”
তিনি বলেন, “এবারের পরিবর্তন কী কারণে এসেছে, তা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে যে কারণেই হোক, মানুষ স্বস্তিতে ছিল। এটি সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। তবে চালের মূল্যবৃদ্ধি ও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারাটা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকল।”