ট্রাম্পের প্রতিশোধমূলক শুল্ক নীতি: ৭৮টি দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ট্রাম্পের কড়াকড়ি

ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিতে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিভিন্ন দেশের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

বুধবার (২ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে এক ভাষণে তিনি বলেন, “দশকের পর দশক ধরে আমাদের দেশ লুটপাট, শোষণ এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এখন সময় এসেছে এসবের অবসান ঘটানোর।”

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর উচ্চ শুল্ক

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণায়, চীন, ভারত, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
– চীনের পণ্যের ওপর শুল্ক: ৩৪%
– ভারতের ওপর: ২৬%
– জাপান: ২৪%
– ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ২০%

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্কের তুলনায় এই শুল্ক হার তুলনামূলক কম এবং এটি কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রকে শোষণ থেকে রক্ষা করতেই আরোপ করা হয়েছে।

শুল্ক আরোপের প্রভাব ও সমালোচনা

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্পের এই কঠোর নীতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনার সূচনা হতে পারে বলেও অনেকে সতর্ক করছেন।

শুল্ক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৮টি দেশ

এই ঘোষণায় মোট ৭৮টি দেশ বা অঞ্চলের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশকে একটি একক সত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

শুল্কহার ১০% থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নিচে উল্লেখযোগ্য কিছু দেশের শুল্ক হার:

অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত (২৬%), দক্ষিণ কোরিয়া (২৫%), থাইল্যান্ড (৩৬%), ইন্দোনেশিয়া (৩২%), পাকিস্তান (২৯%), সৌদি আরব (১০%), যুক্তরাজ্য (১০%), ব্রাজিল (১০%), ফিলিপাইন (১৭%), অস্ট্রেলিয়া (১০%) ইত্যাদি।

নতুন শুল্ক হারগুলো বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) থেকেই কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *