সেনাবাহিনী দেশের ভ্যানগার্ড, যারা তাদের বিতর্কিত করে তারা দেশবিরোধী: বুলু

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যাহ বুলু (Barkat Ullah Bulu) বলেছেন, যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের আত্মত্যাগ অস্বীকার করে, তাদের এই দেশে রাজনীতি বা ভোট চাওয়ার কোনো অধিকার নেই। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) নোয়াখালীর (Noakhali) বেগমগঞ্জ (Begumganj) উপজেলার চৌমুহনী (Chowmuhani) পৌর শহরের এক রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাবাহিনী দেশের গর্ব, বিতর্কিত করতে চাইলে তা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

বুলু বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হলো দেশের ভ্যানগার্ড। যারা এই বাহিনীকে বিতর্কিত করতে চায়, তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) স্বাধীনতা ঘোষণার পরই সেনাবাহিনী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে, তারা সব সময় দেশের মানুষের পক্ষে অবস্থান করেছে।

তিনি মন্তব্য করেন, “৫ আগস্ট সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান যদি শেখ হাসিনাকে তার মাতৃভূমি ভারতে না দিয়ে আসতেন, তাহলে দেশে আরও খারাপ অবস্থা হতো।”

যারা একাত্তর অস্বীকার করে, তারা জনগণের রাজনীতি করতে পারে না

বুলু বলেন, যারা একাত্তরের ইতিহাস অস্বীকার করে, তারা বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করে। তারা ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মূল্য বোঝে না। এদের রাজনীতি করার, ভোটে দাঁড়ানোর বা ভোট চাওয়ার অধিকার নেই।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জন্ম ৭১-এর মাধ্যমে হয়েছে। যারা ৭১’কে অস্বীকার করে, তারা রাজনীতিতে থাকার ন্যূনতম অধিকারও রাখে না।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের দাবি

বুলু আরও দাবি করেন, “জুলাই মাসে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, সেখানে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। যেমন ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এরশাদের পতন হয়েছিল, তেমনি জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে হাসিনার বিদায় হয়েছে।”

নিরপেক্ষ নির্বাচনের আহ্বান

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বুলু বলেন, “ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলার বর্তমান সংকট নিরসনে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জরুরি। তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।” তিনি ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ও সেনাবাহিনীর ভূমিকাকেও প্রশংসা করেন।

মতবিনিময় সভায় আরও যারা ছিলেন

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপি (Noakhali District BNP)-র সাবেক সদস্য শামিমা বরকত লাকী, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষা চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক আবেদ, চৌমুহনী পৌর বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন হারুন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন প্রমুখ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *