যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচন আয়োজন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) বলেছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো “যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা”। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক (Bangkok)-এ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন আয়োজন ও সংস্কার অগ্রাধিকার

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমি জনগণকে আশ্বস্ত করেছি, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করব।” তিনি জানান, নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ছয়টি কমিশন গঠন করা হয়েছে।

এই কমিশনগুলো ইতোমধ্যে সুপারিশ জমা দিয়েছে এবং সেগুলো সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। সেইসঙ্গে তিনি জানান, ছয় কমিশনের প্রধানদের নিয়ে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব তিনি নিজেই দিচ্ছেন।

গণজাগরণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ব্যাংককের বক্তব্যে অধ্যাপক ইউনূস স্মরণ করিয়ে দেন, “১৯৭১ সালে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তারাই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।” তিনি বলেন, “গত পনেরো বছরে বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে যুবসমাজ, তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা সংকুচিত হতে দেখেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয় এবং নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন জনগণের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “নৃশংস স্বৈরাচারী শাসন অবসানের পথে প্রায় ২ হাজার নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১৮ জন শিশু। তবে জনগণ এবার তাদের ইতিহাসে এক নবজাগরণ প্রত্যক্ষ করেছে।”

শেখ হাসিনার শাসনের সমালোচনা

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “যেসব ছাত্রনেতা গণজাগরণে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছেন, তারাই আমাকে আহ্বান জানান এই সংকটকালে নেতৃত্ব নিতে। আমি জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব নিয়েছি।”

অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার

সরকারপ্রধান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে তারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। ইতিমধ্যে সরকার আরও চারটি নতুন কমিশন গঠন করেছে—গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, শ্রম এবং নারী অধিকার বিষয়ক নীতিগত সুপারিশের জন্য।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ—হোক সে নারী, জাতিগত বা ধর্মীয় সংখ্যালঘু।”

আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি

এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও সম্মেলনের চেয়ারপার্সন পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা (Paetongtarn Shinawatra), বিমসটেক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মনি পান্ডে (Indra Mani Pandey), এবং বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *