বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় (Anti-Discrimination Student Movement) ঢাকার যাত্রাবাড়ী (Jatrabari) এলাকায় পুলিশের গুলিতে আহত হওয়া মো. আশিকুর রহমান হৃদয় (Md. Ashiqur Rahman Hridoy) অবশেষে মারা গেছেন। হৃদয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সাইয়েদ আব্দুল্লাহ (Syed Abdullah)।
হৃদয়ের জীবনাবসান ও চিকিৎসা সংকট
১৭ বছর বয়সী হৃদয় ছিলেন পটুয়াখালীর বাসিন্দা এবং ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন। গত বছরের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার মাথায় তিনটি গুলি লাগে। দুইটি গুলি অপসারণ করা গেলেও তৃতীয়টি শরীরে রয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সেই ব্যবস্থা কেউ করেনি।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হৃদয়কে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (Bauphal Upazila Health Complex)-এ ভর্তি করা হয় এবং বিকেল ৪টার দিকে তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
পরিবারের বেদনা ও অভিযোগ
হৃদয়ের বাবা আনসার হাওলাদার জানান, রিকশা ও একটি গরু বিক্রি করে যতটা সম্ভব চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিদেশে চিকিৎসার সামর্থ্য ছিল না। হৃদয়ের বড় ভাই সোহাগ ইসলাম জানান, “আমার ভাইয়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি, হলে হয়তো সে বেঁচে যেত।”
সাইয়েদ আব্দুল্লাহর প্রতিবাদ
হৃদয়ের মৃত্যুর পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সাইয়েদ আব্দুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “অবশেষে মারাই গেছে হৃদয়।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জুলাই বেচে খাওয়া শুরু করেছে অনেকেই। কিন্তু হৃদয়ের মতো আহতদের কেন ৮ মাস পরেও উন্নত চিকিৎসা হলো না?” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জুলাই ফাউন্ডেশন কিংবা সরকার অথবা ‘জুলাই চেতনা’ নিয়ে সরব থাকা ব্যক্তিরা কি এর জবাব দিতে পারবেন?”
হৃদয়ের বাবা আনসার হাওলাদারের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবদিহিতা চেয়ে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের আহতদের চিকিৎসার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের কি কোনো জবাবদিহি আছে?”
এই মৃত্যু আরও একবার প্রশ্ন তোলে আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা, সহায়তা ও দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ভূমিকা কতটা কার্যকর।