নাক ফেটে গেছে, চোখে গুরুতর আঘাত— নুরের সর্বশেষ অবস্থার বর্ণনা দিলেন রাশেদ

জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে গুরুতর আহত হয়েছেন নুরুল হক নুর (Nurul Haque Nur), গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদমাধ্যমের সামনে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দেন সংগঠনের আরেক নেতা রাশেদ খান (Rashed Khan)। তিনি জানান, নুরের নাক ফেটে গেছে, চোখের অবস্থা খুবই খারাপ, হাতেও গুরুতর কেটে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্কটজনক যে, তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন— নুর বাঁচবেন কি না, তা বলা যাচ্ছে না।

রাশেদ খান অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দাবিই ছিল জাতীয় পার্টি (Jatiya Party) সহ ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। কিন্তু যখন তারা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখান থেকে আমাদের মিছিলে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে আমরা মশাল মিছিল বের করি। কিন্তু মিছিলটি যখন আবার ওই কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়, তখনও দ্বিতীয় দফায় হামলা হয়। এরপর আমরা রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘোষণা দিই। কিন্তু সেটি শুরু করার আগেই সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে আমাদের ওপর চড়াও হয়।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পরও কেন এমন হামলা হলো? একইসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের কথা। তার দাবি, সেই আন্দোলন না হলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। তিনি বলেন, “আমরা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছি, অথচ সরকার আজ জাতীয় পার্টিকে রক্ষায় এগিয়ে আসছে।”

এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় গুরুতর রক্তাক্ত হন নুরুল হক নুর। পরে সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে তার স্ত্রী মারিয়া আক্তার (Maria Akter) ইতোমধ্যেই হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছেন।

নুরের ফেসবুক পেজ থেকে করা একাধিক লাইভ ভিডিওতে দেখা গেছে, নুরের মুখ থেকে বুক পর্যন্ত রক্তে ভেসে যাচ্ছে। তার নাক ফেটে গেছে, অবস্থাও শোচনীয়। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন— এমন দৃশ্যও লাইভ সম্প্রচারে ধরা পড়ে।

একটি সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের সদস্যদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। তখন সেনাবাহিনী এসে জাতীয় পার্টির কর্মীদের সরিয়ে দেয় এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের ঘটনাস্থল ছাড়ার জন্য ১০ মিনিট সময় দেয়। কিন্তু তারা সরে না গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক লাঠিচার্জ চালায়। এতে নুরসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *