চলমান দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে বামপন্থী দলগুলো ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ (Democratic United Front) নামে নতুন একটি জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশন থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই কনভেনশন আয়োজন করে বাম গণতান্ত্রিক জোট এবং বাংলাদেশ জাসদ (Bangladesh JASAD)। সম্মেলনে ৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাব গ্রহণ এবং একটি খসড়া ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এই ঘোষণার ভিত্তিতে আন্দোলন ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। তিনি বলেন, “চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও তার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি। বিজয় আমাদের হাতছাড়া হতে চলেছে। এখনো লুটপাট-দুর্নীতির ধারায় দেশ চলছে। জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক উত্থান ছাড়া বিকল্প নেই।”
সিপিবি (Communist Party of Bangladesh)-র সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের ১৫ মাস পরও দেশে সংকট-নৈরাজ্য লুন্ঠন ও অবক্ষয় অব্যাহত রয়েছে। তাই বাম ও প্রগতিশীল শক্তির সমন্বয়ে ‘রেইনবো কোয়ালিশন’ গড়ে তুলতে হবে এবং আগামীর লক্ষ্য হবে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা।”
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, “আজ থেকে আমাদের একটাই পরিচয়—আমরা গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের মানুষ।” তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা জনগণের মত উপেক্ষা করে যা খুশি তাই করছেন। তার দাবি, ড. ইউনূস নিজেও নানাবিধ অরাজকতার সঙ্গে জড়িত, যা ভবিষ্যতে প্রমাণ হবে।
ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফী রতন। তিনি বলেন, “সুখ-শান্তি ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য প্রগতিমুখী গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন। এজন্য দেশপ্রেমিক-বাম-প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, নারী ও আদিবাসী সংগঠন, শ্রমজীবী পেশাজীবী সংগঠনসহ সব সমাজিক শক্তিকে নিয়ে ‘জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি’ গড়তে হবে।”
৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাবনা পেশ করেন বাসদ (মার্কসবাদী)-র সমন্বয়ক মাসুদ রানা। তিনি বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সুযোগে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মুক্তমত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আঘাত হানছে। একের পর এক মাজার, ভাস্কর্য ও লালন-বাউল শিল্পীর ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।” তিনি এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
কনভেনশনে জানানো হয়, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে দেশজুড়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। জেলায় জেলায় প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে যৌথ নেতৃত্বের ভিত্তিতে একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে, যারা এই জোটের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর, বিভিন্ন জাতিসত্তা, নারী, শ্রমিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।


