টানা তিন দিন সাড়াহীন থাকার পর খালেদা জিয়া সামান্য কথা বলেছেন, শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন

গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) টানা তিন দিন অপ্রতিক্রিয়াশীল থাকার পর শনিবার সকালে সামান্য কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র। ৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সূত্র জানায়, শনিবার সকালে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানের সঙ্গে সিসিইউতে শয্যাশায়ী অবস্থায় তিনি কিছুটা কথা বলেন। এই সামান্য কথোপকথনকেই চিকিৎসকরা ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন, যদিও তাঁর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত বুধবার থেকে খালেদা জিয়া প্রায় সাড়া না দিয়ে নিস্তেজ ছিলেন। শ্বাসকষ্ট এবং শরীরে অতিরিক্ত পানি জমার কারণে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। ফুসফুসে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি এবং কিডনি কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় গত চার দিন ধরে তাঁকে ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরে পানির ভারসাম্য না ফিরলে এবং কিডনি কার্যকারিতা স্থিতিশীল না হলে তাঁর সুস্থতার আশা দুরূহ। ফলে চিকিৎসকরা পরবর্তী দুই দিনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চিকিৎসক বোর্ড, যেখানে যুক্ত রয়েছেন দেশীয় বিশেষজ্ঞ ছাড়াও জনস হপকিনস হাসপাতাল (Johns Hopkins Hospital) ও লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকরা, নীতিগতভাবে বিদেশে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে তাঁর বিমানভ্রমণের উপযোগী শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে।

পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, লন্ডনে চিকিৎসা সম্ভব না হলে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এই মুহূর্তে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই।”

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হয়। তবে শনিবার সকালের দিকে কিছুটা অগ্রগতি দেখা দেয়, যা পরিবার ও চিকিৎসকদের আশান্বিত করেছে। এরপরও আশঙ্কা রয়ে গেছে, কারণ যে কোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি সমস্যাসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। গত রোববার রাতে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন থেকেই তিনি সিসিইউতে আছেন এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *