ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি (Sharif Osman Hadi)-কে হ’\ত্যা চে’\ষ্টার ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই সন্ত্রা’\সী ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং আলমগীর শেখ ঘটনার দিনই সীমান্ত পে’\ড়িয়ে দেশ ছে’\ড়ে পা’\লিয়ে গেছে। শুক্রবার রাতেই তারা ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে বলে নিশ্চিত করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
হাদির ওপর হা’\মলার পরপরই শুরু হওয়া গ্রে’\প্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফয়সাল ও আলমগীর হাদিকে গু’\লি করার আগেই কোন সীমান্ত দিয়ে দেশত্যাগ করবে, তা নির্দিষ্ট করে রেখেছিল। সে অনুযায়ী মানব পা’\চারকারী চক্রের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক লেনদেন আগেই সম্পন্ন করা হয়।
সূত্র মতে, হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে লোক পা’\চার করে এমন একটি চক্রের স্থানীয় সদস্যদের সঙ্গে আগেই ডিল সম্পন্ন করে তারা। বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় হাদিকে গু’\লি করার পর কোনো ধরনের সময় নষ্ট না করে সরাসরি তারা হালুয়াঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। সীমান্তে পৌঁছাতে গভীর রাত হয়ে যায় এবং ওই রাতেই তারা সীমান্ত পা’\ড়ি দেয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা জানান, গু’\লি করার পর ফয়সাল ও আলমগীর প্রথমে সাভার হয়ে ময়মনসিংহে যায়। সাভারে গিয়ে তারা ব্যবহৃত মোবাইল সিম নষ্ট করে ফেলে এবং নতুন মোবাইল ও সিম ব্যবহার শুরু করে। নতুন সিম ব্যবহার করেই আগেই ঠিক করে রাখা মানব পা’\চারকারী চক্রের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে।
ঢাকা থেকে বের হয়ে কখনো বাস, কখনো প্রাইভেটকার, আবার কখনো মোটরসাইকেলে একাধিক যানবাহন বদল করে তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌঁছায়। সেখানে ‘গ্রিন জোন রিসোর্ট’ নামের একটি হোটেলে সাময়িকভাবে অবস্থান নেয়। পরে শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে পাচারকারী চক্রের সহায়তায় তারা সীমান্ত পে’\ড়িয়ে ভারতে চলে যায়। এই দুই সন্ত্রা’\সীকে সীমান্ত পা’\ড়ি দিতে সহায়তা করা পাচারচক্রের মূল হোতা গ্রে’\প্তারের ভয়ে আগেই ভারতে চলে গেছে বলেও জানা গেছে।
তবে পাচারচক্রের আরও দুই সদস্য সিবিয়ন দিও ও সঞ্জয় চিসিমকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রে’\প্তার করে ঢাকায় আনা হয়েছে। পুলিশ এই দুই পাচারকারী গ্রে’\প্তারের তথ্য জানালেও হাদিকে হ’\ত্যা চে’\ষ্টাকারী দুই সন্ত্রা’\সী দেশত্যাগ করেছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বরং পুলিশ দাবি করছে, তাদের কাছে এমন তথ্য আছে যে ফয়সাল ও আলমগীর এখনও দেশে রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, তারা ইতোমধ্যে ভারতে পা’\লিয়ে গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাদিকে হ’\ত্যার উদ্দেশ্যেই মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে মাঠে নামে ফয়সাল ও আলমগীর। মূল দুই শু’\টারকে ব্যাকআপ দিতে ৭-৮ জনের কয়েকটি টিম কাজ করে। ঘটনার কয়েকদিন আগেই হাদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে তার গতিবিধি নজরদারি, অস্ত্রের জোগান, গু’\লির স্থান হিসেবে বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকা নির্বাচন, এরপর চারবার যানবাহন বদলে সীমান্তে পৌঁছানো—সবই ছিল সুপরিকল্পিত।
হাদিকে গু’\লি করে মোটরসাইকেলে কতদূর যাবে, এরপর কোন যানবাহন ব্যবহার করা হবে, কোথায় গিয়ে তাদের রিসিভ করা হবে—এই প্রতিটি ধাপ আগেই নির্ধারিত ছিল। হা’\মলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক হান্নানকে গ্রে’\প্তার করা হলেও মোটরসাইকেলটির এখনো হদিস মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি তারা নির্জন কোনো স্থানে ফেলে দেয়।
এই ঘটনায় সীমান্তে দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কোনো সদস্য জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাদিকে গু’\লি করার ঘটনার পরপরই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (Border Guard Bangladesh)-এর পক্ষ থেকে দেশের সব সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। ময়মনসিংহ, শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী সীমান্ত এলাকায় বাড়তি নজরদারির কথা জানান ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মেহেদী হাসান। তবে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হা’\মলার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে মালিক আব্দুল হান্নানকে গ্রে’\প্তার করেছে র্যাব (RAB)। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি (Dhaka Metropolitan Police)-র অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গু’\লির ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও অভিযুক্তদের গ্রে’\প্তারে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সে জন্য তাদের পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে সরকার ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে লোক পা’\চার সন্দেহে দুজনকে গ্রে’\প্তার করা হয়েছে। ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং মালিককে গ্রে’\প্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা বিদেশে পা’\লিয়ে গেছে কি না—এমন কোনো তথ্য এখনো ইমিগ্রেশন ডাটাবেজে পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। ফয়সাল করিম মাসুদের সর্বশেষ বিদেশ যাত্রার তথ্যে জানা যায়, সে জুলাই মাসে থাইল্যান্ড থেকে দেশে প্রবেশ করেছিল। এরপর তার দেশত্যাগের কোনো রেকর্ড নেই।
হাদির ওপর হা’\মলার পেছনের কারণ সম্পর্কে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ইনকিলাব মঞ্চের একজন শীর্ষ সংগঠক হিসেবে তিনি একটি রাজনৈতিক পক্ষের প্রতিপক্ষ ছিলেন। সেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেই তাকে টার্গেট করে পরিকল্পিত হ’\ত্যা চে’\ষ্টা চালানো হয়।
ঘটনার তিন দিন পার হলেও মামলা না হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নজরুল ইসলাম বলেন, এখনো মামলা না হলেও জিডি করা হয়েছে। বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। প্রয়োজনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে।
এদিকে মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম রবিবার সন্ধ্যায় এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে জানানো হয়, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার, পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত এবং অর্থ ও তথ্যের যোগসূত্র উদ্ঘাটনের জন্য এই রিমান্ড প্রয়োজন।
অপরদিকে শু’\টার ফয়সাল করিম ও তার মালিকানাধীন আইটি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেডের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এনবিআর (National Board of Revenue)-এর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)।


