নির্বাচনি হলফনামায় আলোচিত প্রার্থীরা কে কত টাকার মালিক? কার নামে মামলা কতটি?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামাগুলোতে উঠে এসেছে আলোচিত অনেক রাজনীতিকের বৈচিত্র্যময় সম্পদ ও মামলা সম্পর্কিত তথ্য। কারও হাতে নগদ কোটি টাকা, আবার কারও নামে একাধিক মামলা; কেউ বা দেখিয়েছেন খুব কম মূল্যের জমি-ফ্ল্যাট। কেউ নিজের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদকে দেখিয়েছেন অনেক বেশি। নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত হলফনামাগুলোর আলোকে নিচে বিশদ তথ্য তুলে ধরা হলো—

ব্যারিস্টার পার্থের বিরুদ্ধে ১০ মামলা, হাতে নগদ ৭৬ লাখ টাকা
আন্দালিব রহমান পার্থ (Andaleeve Rahman Partha), ভোলা-১ আসনের প্রার্থী ও বিজেপি চেয়ারম্যান, নিজ হলফনামায় উল্লেখ করেছেন বিস্ফোরক আইনে দায়ের হওয়া ১০টি মামলা; যার মধ্যে ৮টি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তার সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ২৩ লাখ টাকা, বার্ষিক আয় ৪১ লাখ টাকা, হাতে নগদ ৭৬ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। পার্থের নামে রয়েছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০০ তোলা স্বর্ণ, স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬০ ভরি।

স্ত্রীর সম্পদে এগিয়ে জোনায়েদ সাকি
জোনায়েদ সাকি (Jonaid Saki), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী, নিজে ৪৬ লাখ টাকার মালিক হলেও স্ত্রীর সম্পদ ১ কোটি ২২ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ফ্ল্যাট, দোকান, জমি এবং বার্ষিক আয় ২৩ লাখ টাকা।

পরামর্শক নাহিদের ৩০ লাখ টাকার সম্পদ
ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থী নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam) হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার হাতে রয়েছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সম্পদ মিলিয়ে মোট ৩০ লাখ টাকা। তার কোনো ব্যাংক ঋণ, মামলা বা জমিজমা নেই।

শুধু ৫ লাখ টাকার মালিক সারজিস আলম
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বছরে আয় করেন ৯ লাখ টাকা হলেও সম্পদ মাত্র ৫ লাখ টাকা। তার নামে ১টি মামলা তদন্তাধীন।

পৈতৃক সম্পদে ভরপুর রুমিন ফারহানা
সাবেক বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা (Rumeen Farhana), ঢাকায় জমি ও ফ্ল্যাট পেয়েছেন পিতা-মাতার কাছ থেকে। হলফনামায় তার মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা, হাতে নগদ ৩২ লাখ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণ।

অস্বাভাবিক কম মূল্যে দেখানো জমি-ফ্ল্যাট: আরিফুল হক চৌধুরী
সিলেট-৪ আসনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রায় সাড়ে ৮ একর জমি ও অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য দেখিয়েছেন মাত্র ৫২ লাখ টাকা। স্ত্রীর সম্পদের মূল্য ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, তাদের মোট সম্পদ ১৫ কোটির বেশি।

৫০ লাখ টাকার মালিক এনসিপির হাসনাত
দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর হলফনামায় উল্লেখ, তার আয় ১২ লাখ টাকা, সম্পদ ৫০ লাখ টাকা; স্বর্ণ আছে ২৬ লাখ টাকার। কোনো ঋণ বা মামলা নেই।

স্বর্ণ উপহারে ভরপুর রাশেদ খান
বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খানের নামে জমিজমা না থাকলেও রয়েছে ৩০ ভরি স্বর্ণ ও ৩৫ লাখ টাকা ব্যাংকে। তার নামে ৫টি মামলা; ৩টি এখনও চলমান।

নুরের সম্পদ ৯০ লাখ টাকা, আয় মাত্র ২০ লাখ
পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী নুরুল হক নুর (Nurul Haque Nur) হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার ৯০ লাখ টাকার সম্পদ ও বছরে ২০ লাখ টাকা আয়। স্ত্রীর জমির মূল্য ১০ লাখ টাকা।

ব্যাংকে ২ হাজার টাকা নিয়ে লড়ছেন হান্নান মাসউদ
নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের ব্যাংকে মাত্র দুই হাজার টাকা জমা আছে। তবে নগদ আছে ৩৫ লাখ টাকা। কোনো মামলা নেই।

সবকিছু ছাড়াই নির্বাচনে তাসনিম জারা
ডা. তাসনিম জারা (Tasnim Jara)–র কোনো জমি, ভবন নেই; আয় ৭ লাখ টাকা, সম্পদ ১৯ লাখ টাকার মতো। ব্রিটিশ পাউন্ডেও কিছু আয় রয়েছে।

শাহজাহান চৌধুরীর হাতে নগদ ১ কোটি ৩৪ লাখ, মামলা ৭১টি
শাহজাহান চৌধুরী (Shahjahan Chowdhury), জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী, তার নামে মামলা রয়েছে ৭১টি। আয় মাত্র ৯৬ হাজার টাকা হলেও হাতে নগদ রয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

তারেক রহমানের আয় কম, সম্পদ বেশি
তারেক রহমান (Tarique Rahman) হলফনামায় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সম্পদ ও ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকার বার্ষিক আয়। স্ত্রীর সম্পদ ১ কোটি ৫ লাখ টাকা।

শফিকুর রহমানের আয় কম, হাতে নগদ ৬০ লাখ টাকা
জামায়াতের ডা. শফিকুর রহমানের মোট সম্পদ ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। মামলা ছিল ৭৭টি, সব থেকে খালাস। হাতে নগদ ৬০ লাখ টাকার বেশি রয়েছে।

এরশাদ উল্লাহ-স্ত্রীর মোট সম্পদ প্রায় ৬ কোটি টাকা
এরশাদ উল্লাহ (Ershad Ullah), চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী, তার ও স্ত্রীর হাতে নগদ ৫ কোটির বেশি টাকা। ভাড়া, ব্যবসা ও শেয়ার থেকে তার আয় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা।

ফখরুলের আয় ১১ লাখ, স্ত্রীর সম্পদ আড়াই কোটি টাকা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)–এর বার্ষিক আয় ১১ লাখ টাকা, সম্পদ দেড় কোটি টাকা। স্ত্রীর আয় সাড়ে ১২ লাখ, সম্পদ প্রায় আড়াই কোটি টাকা। তার নামে ৯টি মামলা এখনো স্থগিত।

৫০০ কোটির মালিক মিন্টু, তিন ছেলেরও শত কোটির সম্পদ
আবদুল আউয়াল মিন্টু (Abdul Awal Mintoo), বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ প্রার্থী, তার সম্পদ ৫০৭ কোটি টাকা। তিন ছেলের প্রত্যেকের সম্পদও ২৫ কোটি থেকে ৬৬ কোটির মধ্যে। আয়কর দিয়েছেন ৩৯ লাখ টাকার বেশি।

জয়নুল আবেদীনের সম্পদ ৯ কোটির বেশি
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন (Zainul Abedin) বরিশাল-৩ আসনে প্রার্থী। কৃষি জমি, ফ্ল্যাট, জমাকৃত অর্থ মিলিয়ে তার সম্পদ ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। স্ত্রী ও নিজের নামে ব্যাংকে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকার সঞ্চয়।

মির্জা আব্বাসের সম্পদ ৫৩ কোটি টাকা, আয় ৯ কোটি
মির্জা আব্বাস (Mirza Abbas), ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী, তার হাতে রয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা, মোট সম্পদ ৫৩ কোটি টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ২০ কোটি টাকার সম্পদ। দুই সন্তানের সম্পদ যথাক্রমে ৬৬ কোটি ও ৬ কোটি টাকা।

ইসির তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল ৫-৯ জানুয়ারি, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত ২১ জানুয়ারি। ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *