জামায়াতের জোটে যোগদানের বিরোধিতায় একদিনেই এনসিপির কেন্দ্রীয় চার নেতার পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–তে ভাঙনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরও চার নেতা দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) তাঁরা পৃথকভাবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগকারী নেতারা হলেন— যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফারহাদ আলম ভূঁইয়া এবং কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল।

মুশফিক উস সালেহীন তাঁর পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে এনসিপির অন্তর্ভুক্তি তাঁর নীতিগত অবস্থানের পরিপন্থী। তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগেও দলের নির্বাহী কমিটির সভায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ এবং পরে স্মারকলিপি জমা দেন। তাঁর মতে, এই জোটভুক্তি জুলাই মাসে সংগঠিত গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণতন্ত্রে বিশ্বাস এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক রাষ্ট্র গঠনের রাজনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে, খান মুহাম্মদ মুরসালীন নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায়। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, এনসিপিতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি দল থেকে পদত্যাগ করছেন। তবে রাজনীতি ছাড়ছেন না— “দেখা হবে রাজপথে,” মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে আইসিটি সেলের প্রধান ফারহাদ আলম ভূঁইয়া এবং কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুলও লিখিতভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেন। টুটুল তাঁর পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, দলের লক্ষ্য ও আদর্শ অস্পষ্ট, আর সদস্যদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে—এ কারণে তিনি এনসিপির সঙ্গে আর যুক্ত থাকতে চান না।

এর আগেই, ৩১ ডিসেম্বর রাতে এনসিপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এক বাক্যে পদত্যাগের ঘোষণা দেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। তাঁর পদত্যাগপত্রে লেখা ছিল, “আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির সকল পদ থেকে পদত্যাগ করছি।” এটি তিনি দলের সদস্যসচিব, দপ্তর সেল এবং কেন্দ্রীয় সদস্যদের কাছে পাঠান।

এরও আগে ২৭ ডিসেম্বর তাসনিম জারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানান, তিনি ঢাকা-৯ (সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এরপরই আসে তাঁর স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহর পদত্যাগের খবর। গণমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এনসিপি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

এই ধারাবাহিক পদত্যাগ এনসিপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং রাজনৈতিক কৌশল ঘিরে মতপার্থক্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *