৭০ এর নীচে রাজি নয় ইসলামী আন্দোলন

অন্যান্য শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami) সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (Islami Andolon Bangladesh) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (Bangladesh Khelafat Majlish)-এর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। আপাতত এই মতবিরোধেই থমকে রয়েছে জোটের চূড়ান্ত ঘোষণা।

জোটের বিভিন্ন শরিক দলের সঙ্গে আসন বণ্টন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও ইসলামী আন্দোলন এবং জামায়াতের মধ্যে মতানৈক্য এখনো নিরসন হয়নি। এনসিপি (NCP)-র সঙ্গে ৩০টি এবং বাংলাদেশ খেলাফতের সঙ্গে ১৩টি আসন নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে। পাশাপাশি খেলাফত মজলিস ও এলডিপিকে ৬টি করে, এবি পার্টি ও খেলাফত আন্দোলনকে ৩টি করে এবং নেজামে ইসলাম, জাগপা ও বিডিপিকে ২টি করে আসন দেওয়ার প্রস্তাব মিলিয়ে মোট ৬৭টি আসনে ঐকমত্য এসেছে বলে জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান ঘিরে। জামায়াত যেখানে ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য ধরে রাখতে চাইছে, সেখানে শরিকদের জন্য বরাদ্দ রাখতে চাইছে মাত্র ১১০টি আসন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টির বেশি দিতে রাজি নয় দলটি। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের দাবি—তারা অন্তত ৭০টি আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং সেগুলোতেই তারা জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে। সেই আসনগুলো ছাড়তে জামায়াত রাজি না হওয়ায় চলছে অচলাবস্থা।

ইসলামী আন্দোলনের এক সিনিয়র নেতা জানান, “জামায়াত যেসব আসনে এনসিপিকে ৩০টি আসন দিয়েছে, সেসব আসনে আমাদের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে। অথচ আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আমরা কিছুটা অসন্তুষ্ট।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আশাবাদী জামায়াত শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা বুঝে আরও কিছু আসন আমাদের দেবে, যাতে একটি কার্যকর সমঝোতা সম্ভব হয়।”

এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, “সমস্যাটা শুধুই আসন বণ্টন নিয়ে। সবাই চাইছে বেশি আসন, কিন্তু কেউ ছাড় দিতে রাজি নয়। বিশেষ করে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়।”

তবে আশার কথা শোনান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ। তিনি বলেন, “একটি বৈঠকে কিছুটা অগ্রগতি হলেও পরের বৈঠকে আবার থেমে গেছে আলোচনা। তারপরও আমরা আশা করছি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই একটা সমঝোতা হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *