প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো সংবেদনশীল বিষয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পক্ষপাতিত্ব করছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)। রোববার রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই অভিযোগ উত্থাপন করে দলটি।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘‘একই ধরনের ঘটনায় কাউকে বৈধ আর কাউকে অবৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এতে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।’’ তিনি আরও বলেন, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসির মধ্যে অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এর আগে সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির আমির শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
তাহের বলেন, ‘‘আমরা শুনছি কোনো একটি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি—চাপের মুখে নয়, আরপিও অনুসারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সে দল জামায়াত হলেও নিয়ম মানতে হবে।’’
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ‘‘মনোনয়ন বৈধতা নির্ধারণে আরপিও মানা না হলে কমিশনের উপর আস্থা হারাবে জনগণ। এতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণিত হবে।’’
ব্রিফিংয়ের এক পর্যায়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাহের বলেন, “গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের প্রধানকে নিয়ে সরকার অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করছে। তাঁকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচনী মাঠে সমান সুযোগ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জামায়াতের আমিরও একটি প্রধান দলের নেতা, তাঁর ক্ষেত্রেও সম আচরণ চাই।”
তাহের বলেন, “কাউকে অধিক নিরাপত্তা দিলে আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু নির্বাচন কমিশন যদি এক পক্ষকে বাড়তি সুবিধা দেয়, আর অন্য পক্ষকে অবহেলা করে, তাহলে এই কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জাতি প্রশ্ন তুলবে। এতে করে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা দুর্বল হয়ে পড়বে।”


