“দোষারোপ করে নয়, মানুষের পেট ভরানো ও তাদের ভালো রাখার রাজনীতি করতে হবে”—এমন বার্তা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে জন্ম নেওয়া অ্যালবিনিজমে আক্রান্ত শিশু আফিয়া ও তার মা মনিরা খাতুনের জন্য নির্মিত সেমিপাকা ঘর হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
সোমবার নতুন ঘর হস্তান্তরের মাধ্যমে আফিয়া ও তার মায়ের দুর্বিষহ জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, “দোষারোপের রাজনীতি করলে কারও পেট ভরে না। আমরা এমন রাজনীতি করতে চাই, যা মানুষের কাজে আসে। শুধু স্লোগান, গান বা মিছিল-সমাবেশ নয়—রাজনীতি হবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর হাতিয়ার।”
শিশু আফিয়ার অতিরিক্ত ফর্সা গায়ের রং দেখে জন্মের পরপরই সন্দেহে পড়ে তার বাবা, যিনি পরে তার মাকে তালাক দিয়ে বিদেশে চলে যান। সেই থেকে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছিল মা-মেয়ের। এই করুণ গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা বিদেশে থাকা তারেক রহমানের নজরে আসে। এরপরই তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (Anindya Islam Amit) কে নির্দেশ দেন, আফিয়ার পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের একটি বসবাসযোগ্য ঘর তৈরি করে দিতে।
তার নির্দেশে যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে আফিয়াদের জন্য নির্মিত হয় একটি সেমিপাকা ঘর। আজ সেই ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম (Professor Nargis Begum), অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর জেলা ও মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
তারেক রহমান আরও বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে সীমাবদ্ধতার কারণে তারা অনেক কিছু করতে পারেনি। আফিয়ার মতো শিশুরা এবং তার মায়ের মতো অসহায় মানুষজন এই দেশেরই সন্তান। তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথাও আমাদের ভাবতে হবে।”
তিনি তার বক্তৃতায় জানান, দলীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালনের এই ধারা বিএনপি অব্যাহত রাখবে। সমাজের সকল স্তরের মানুষ যেন অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান তিনি।


