ঢাকায় ৩টি সহ ১০ আসনে জয়ের স্বপ্ন এনসিপির !!

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত জোট থেকে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে লড়ছে নবীন রাজনৈতিক দল এনসিপি (NCP)। এবার মোট ৩২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে দলটি। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, অন্তত ৮ থেকে ১০টি আসনে জয়ী হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। তাদের দাবি তাদের নিজস্ব জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

তাদের দাবি, একাধিক জরিপ এবং দলীয় বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ১০ আসনের বাইরেও চার-পাঁচটি আসনে এনসিপির প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে। শুধু সাধারণ আসন নয়, সংরক্ষিত নারী আসন ও উচ্চকক্ষেও দলটির কিছু প্রতিনিধির সংসদে যাওয়ার আশা করছে এনসিপি।

ঢাকায় তিন কেন্দ্র ঘিরে জয়ের কৌশল

ঢাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসন—ঢাকা-৮, ঢাকা-১১ ও ঢাকা-১৮—ঘিরে এনসিপি-র উচ্চপর্যায়ে রয়েছে আলাদা প্রস্তুতি ও আশাবাদ। এই আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন দলটির মুখ্য নেতারা। ঢাকা-১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-৮ আসনে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এবং ঢাকা–১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব।

তবে এই আসনগুলো সহজ নয়। কারণ, এখানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—মির্জা আব্বাস (ঢাকা-৮), ড. এম এ কাইয়ুম (ঢাকা-১১) এবং এস এম জাহাঙ্গীর (ঢাকা-১৮)। তবুও এনসিপি মনে করছে, ১০ দলীয় জোটের সমর্থন এবং তরুণ নেতৃত্বের উত্থানে তারা এ আসনগুলোতে জয় ছিনিয়ে আনতে পারবে।

ঢাকার বাইরে সাত কেন্দ্রে জয়ের আশাবাদ

ঢাকার বাইরেও বেশ কিছু আসনে নিজেদের শক্ত অবস্থানে দেখছে এনসিপি। রংপুর-৪ আসনে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কুমিল্লা-৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, পঞ্চগড়-১ আসনে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, নোয়াখালী-৬ আসনে সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, নারায়ণগঞ্জ-৪ এ আবদুল্লাহ আল আমিন, কুড়িগ্রাম-২ এ আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং দিনাজপুর-৫ আসনে ডা. আবদুল আহাদ—এই সাতজনকে এগিয়ে রাখছে দলের অভ্যন্তরীণ জরিপ।

বিশেষভাবে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপির কারণে বাতিল হওয়ায় সেই আসনকে জয়ের জন্য সম্ভাবনাময় মনে করছে এনসিপি। যদিও পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলমের সামনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জমিরউদ্দিন সরকারের পুত্র বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমির, যাকে হেভিওয়েট বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যান্য আসনে লড়াকু প্রার্থীদের ওপর ভরসা

এনসিপির প্রার্থীরা আরও কিছু আসনে উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন বলেও আশা দলের নেতাদের। এর মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা-২০ আসনে নাবিলা তাসনিদ, নরসিংদী-২ এ সারোয়ার তুষার, টাঙ্গাইল-৩ এ সাইফুল্লাহ হায়দার, পিরোজপুর-৩ এ শামীম হামিদী, মৌলভীবাজার-৪ এ প্রীতম দাস, সিরাজগঞ্জ-৬ এ এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ এ মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, নাটোর-৩ এ এস এম জার্জিস কাদির এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোবাইরুল হাসান আরিফ।

দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এসব আসনে প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় এবং ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন, যা শেষ মুহূর্তে ভালো ফল এনে দিতে পারে।

তাদের আশা ঠিক কতটুকু বাস্তবে রূপ নিবে তা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পর্যন্তই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *