“এই নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন”—বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের দেবীপুর খুররমখাঁ আদর্শকলোনি এলাকায় এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন চান।
পথসভায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে ফখরুল বলেন, “উন্নয়নের প্রতীক ধানের শীষ। সবাই মিলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। বিএনপি একটি পরীক্ষিত দল—আমরা আগেও ক্ষমতায় গিয়েছি এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করেছি। এবারও আমাদের ওপর আস্থা রাখলে উন্নয়ন হবে।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “হাসিনা আপা ভারতে গিয়ে তাদের কর্মী-সমর্থকদের বিপদে ফেলে রেখে গেছেন। আমরা সেই কর্মীদের পাশে আছি। যারা অন্যায় করেনি, তাদের কোনো শাস্তি আমরা হতে দেব না।”
ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে ফখরুল বলেন, “একটি দল হিন্দু-মুসলমান ভাগ করতে চায়, কিন্তু আমরা চাই না। আমরা সব ধর্মের মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। একসঙ্গে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
জনসভায় লিফলেট বিতরণকালে তিনি আরও বলেন, “যারা মো’\না’\ফে’\ক, যারা মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। এজন্য শক্তি নিয়ে আবারও উঠে দাঁড়াতে হবে।”
তিনি বলেন, হিন্দু ভাই ও মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকদের তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দিতে হবে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “১১১টি মামলায় সাড়ে তিন বছর জেল খেটেছি। আমি জেলে থাকাকালীন আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়। সে অবস্থাও গেছে, কিন্তু আমি মাথা নোয়াইনি। আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনিও মাথা নোয়াননি।”
বিএনপি মহাসচিব এই নির্বাচনী জনসভায় ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা দেশ ও মানুষের জন্য রাজনীতি করি, মিথ্যা আশ্বাস নয়। আমাদের ওপর ভরসা রাখুন, আমরা দেশটাকে আবার গড়ব।”


