যাকে চিনি না, তাকে ভোট দেব কেমনে? আসিফ মাহমুদকে জুলাই শহিদের মা

চট্টগ্রাম–৮ আসনে ১০ দলীয় জোট আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু মাঠের গল্পটা একেবারেই অন্য রকম। বিশেষ করে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসেরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মনোভাব, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক এবং তার জনপ্রিয়তা-সব মিলিয়ে যেন জোটের সিদ্ধান্তের ওপর ছায়া ফেলে দিয়েছে।

এই দ্বন্দ্ব, এই অস্বস্তির সব রং স্পষ্ট হয়ে ওঠে আজ সোমবার বোয়ালখালীর ফুলতলার এক দুপুরে। জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ মো. ওমর বিন নুরুল আবছারের মা রুবি আক্তারের মুখে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আজ ফুলতলায় গণসংযোগে যান। পোস্টার, মাইক, কয়েক ডজন কর্মী-সব মিলিয়ে প্রচারণার সাধারণ ছবি। কিন্তু উপস্থিত জনতার দৃষ্টি তখন অন্য দিকে শহিদ ওমরের মা রুবি আক্তার কাছে আসতেই মানুষের ভিড় জমে যায়। অল্প কথায়, শান্ত গলায়, কিন্তু ক্ষতবিক্ষত অভিজ্ঞতা আর গভীর আক্ষেপ মিশিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম–৮ আসনে স্থানীয় মানুষের ভোট বেশি। স্থানীয় মানুষ চাইবে স্থানীয় মানুষকেই ভোট দিতে।

তিনি বলেন, জুলাইকে কখনো বিক্রি করিনি, কোনো সুবিধাও নেইনি। আমরা মতো পরিবার এলাকার জন্য সবসময়ই ছিলাম। এই আসন যদি কোনো কারণে খালি হয়ে যায় বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

রুবি আক্তারের কথা মাঝপথে থামিয়ে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, আন্টি, আমরা ১০ দলীয় জোট। সবাই যদি সহযোগিতা করে, এই সিট কখনো হাতছাড়া হবে না।

রুবি আক্তার তার কথার উত্তরে বলেন, জোট ঠিক আছে, কিন্তু এখানে স্থানীয় মানুষ অনেক বেশি। জোটের ভোট ২০ শতাংশ, স্থানীয় ভোট ৮০ শতাংশ। যাকে প্রার্থী দিয়েছেন তাকে তো কেউ চিনে না।

রুবি আক্তারের এই কথায় শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, এলাকার নির্বাচনি অঙ্কও উঠে আসে যেন ! এ সময় আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা তো এখনো মাঠে নেমে গেছি।

এর জবাবে রুবি আকতার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাহলে আমি বলি এই আসনটি ওপেন রাখা হোক। এনসিপিও করবে, জামায়াতের আবু নাসের ভাইও করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *