নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালানোর জেরে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তালপুকুর মাস্টারপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
চার বছর ধরে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আল আমিন। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এবং ফেসবুকে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে পোস্ট দেওয়ায় মসজিদ কমিটি দীর্ঘদিন ধরে তাকে চাপ দিচ্ছিল রাজনীতি ছাড়ার জন্য। তার দাবি, “বিশেষ করে এলাকার জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতাকর্মী আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য মসজিদ কমিটিকে চাপ দিচ্ছিল।”
আল আমিন আরও বলেন, “কিছুদিন ধরে আমাকে সরানোর চেষ্টা চলছিল। তার উপর মসজিদের সামনে থাকা একটি দোকান উচ্ছেদের সময় আমি দোকানির পক্ষে সামান্য সময় চেয়ে কথা বলি। এরপর থেকেই মসজিদ কমিটির সভাপতি এলাহী বক্সসহ কয়েকজন আমার ওপর রুষ্ট হন। এবং সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত হয় আমাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার।”
এই প্রসঙ্গে মসজিদ কমিটির সভাপতি এলাহী বক্স বলেন, “একজন মুয়াজ্জিন হিসেবে কারো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব কাম্য নয়। তিনি একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার করছিলেন, যা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। এছাড়া দোকান উচ্ছেদে বাধা দেওয়ার কারণেও তিনি কমিটির অসন্তোষের মুখে পড়েন।”
তবে এলাহী বক্স দাবি করেন, “মসজিদের সামনে দোকান বসানোর বিষয়ে কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দোকান উচ্ছেদে সময় দেওয়া হলেও দোকানদার তা না মানায় উচ্ছেদ করা হয়। আল আমিন সেই দোকানদারকে সমর্থন করায় সমস্যা তৈরি হয়।”
ঘটনার জেরে অভিযোগের তির ছুটেছে জামায়াতে ইসলামীর দিকেও। যদিও সাপাহার উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। আল আমিনের ফেসবুক পোস্ট বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তবে ফেসবুকে এই ঘটনা ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন ব্যক্তিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে চাকরি হারাতে হয়েছে—এই অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে ধর্মীয় নিরপেক্ষতার প্রসঙ্গেও।


