প্রতিনিধিদের পাঠানো মাঠপর্যায়ের জরিপ, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, প্রার্থীভিত্তিক জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত, অতীত নির্বাচনের ফলাফল ও ভোটের ট্রেন্ড, পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতা—সবকিছু সমন্বয় করে তাজাখবরের এআই মডেল খুলনা বিভাগের ৩৬টি সংসদীয় আসনের নির্বাচন প্রজেকশন তৈরি করেছে। এই বিশ্লেষণে দলীয় শক্তি, জোট রাজনীতি, বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব, স্থানীয় ভোট ব্যাংক , সংখ্যালঘু ভোটের অনুপাত এবং নগর ও গ্রামীণ ভোটের পার্থক্যকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই প্রজেকশন অনুযায়ী খুলনা বিভাগে বিএনপি এবং জামায়াত জোট হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। মোট 36টি আসনের মধ্যে অন্তত ১৪ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। আর অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন অন্তত ১২ টি আসনে। অন্য একটি আসনে অনেকটাই এগিয়ে আছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। বাকি ৯ টি আসনে কোনোটিতে বিএনপি’র সাথে জামায়াতের দ্বিমুখী আবার কোনো কোনোটিতে বিএনপি জোট-বিএনপি বিদ্রোহী-জামায়াত প্রার্থীদের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
এইসব দ্বিমুখী আর ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিবেচনায় নিয়ে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে খুলনা বিভাগে বিএনপি জোট ৩৬টি আসনের মধ্যে ২২টি আসনে বিএনপি জোটের জয় সম্ভাব্য বলে দেখা যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ১৩টি আসনে জামায়াত জোট শক্ত অবস্থানে রয়েছে, যা এই বিভাগকে দেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে তুলে ধরছে। এছাড়া ১টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেষ হাসি হাস্তে পারেন। তবে এই বিভাগে অন্তত ৩ টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিততে না পারলেও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তেমন কিছু ঘটলে জামায়ার আসন ২/১ টি বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে।
তাজাখবরের এআই বিশ্লেষণে আসন ভিত্তিক নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস এবং নির্বাচনের লাইভ ফলাফলের জন্য ভিজিট করুন – তাজাখবর নির্বাচন (TazaKhobor)
বিশ্লেষকদের মতে, খুলনা বিভাগের রাজনীতিতে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোট বিভাজন। বিশেষ করে যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও খুলনার কিছু এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, মনোনয়ন–অসন্তোষ এবং সংগঠনের দুর্বল সমন্বয় বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংককে পুরোপুরি একত্রিত করতে পারছে না। এই ফাঁকটিই জামায়াত জোট দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
অন্যদিকে জামায়াত জোট খুলনা বিভাগে তুলনামূলকভাবে সংগঠিত ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণা চালাচ্ছে। ধর্মভিত্তিক সামাজিক নেটওয়ার্ক, নিয়মিত তৃণমূল কার্যক্রম এবং কিছু এলাকায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা তাদের ভোটের ভিত্তি মজবুত করছে। ফলে যেসব আসনে বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যাচ্ছে, সেখানেই জামায়াত জোট কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসছে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, খুলনা বিভাগ এখন একটি ‘ট্রু ব্যাটেল গ্রাউন্ড’—যেখানে বিএনপি জোট এগিয়ে থাকলেও জামায়াত জোটের শক্ত উপস্থিতি প্রতিটি আসনেই লড়াইকে হাড্ডাহাড্ডি করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভাগের ফলাফল শুধু স্থানীয় নয়, বরং জাতীয় সংসদের জোট রাজনীতির সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি, শেষ মুহূর্তের প্রচারণা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়—সেটিই খুলনা বিভাগের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণ করবে।
তাজাখবরের এআই বিশ্লেষণে আসন ভিত্তিক নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস এবং নির্বাচনের লাইভ ফলাফলের জন্য ভিজিট করুন – তাজাখবর নির্বাচন (TazaKhobor)
নির্বাচনের লাইভ ফলাফল ও আসনভিত্তিক প্রজেকশনের জন্য দেখতে থাকুন: তাজাখবর নির্বাচন এরিয়া পোর্টাল।


