আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (BTV) সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি তরুণদের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাইয়ের মতো আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সাহসী তরুণদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই। এমন একটি দেশ চাই, যেখানে পারিবারিক পরিচয় কিংবা বিশেষ গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় কেউ রাষ্ট্র পরিচালনার আসনে বসতে পারবে না। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ চায় নিরাপত্তা, সুশাসন, ইনসাফ। রাষ্ট্রের কিছু মৌলিক সংস্কারের জন্য সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও তা বাস্তবায়ন অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের মাধ্যমে সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে পূর্ণতা দেওয়া সম্ভব।’
ভাষণে আবরার ফাহাদ, আবু সাইদ মুগ্ধ, এবং ওসমান হাদি-সহ তরুণদের সাহস ও নেতৃত্বের প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এই হিম্মত দেখিয়েছে সময়ের সাহসী সন্তানরা। তাদের হাতেই আমরা দেশের ভবিষ্যৎ তুলে দিতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো ছিল ভোটাধিকার হরণের একেকটি অধ্যায়। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে নির্বাচনের নামে তামাশা করে। সেই অবিচার প্রতিরোধেই এসেছে রক্তাক্ত জুলাই। তরুণরা নতুন দেশ দেখতে চায়, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।’
তবে এ পরিবর্তনের পথে একটি বিশেষ মহল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কারণ, ‘পরিবর্তন এলেই তাদের অপকর্ম, লুটপাট, দলীয় সুবিধা আদায়ের সুযোগ হারাতে হবে।’
সরকারি পদে নির্বাচিত শাসকগোষ্ঠীকে তিনি অভিযুক্ত করে বলেন, ‘তারা নিজেদের এই রাষ্ট্রের মালিক মনে করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, পদ-পদবি সবকিছুই ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে।’
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এই ভাষণে শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে জানান, তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান, যা নেতৃত্ব দেবে তরুণরা, যেখানে থাকবে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং সবার জন্য সমান অধিকার।


