ভোটের দিনে খালেদা জিয়াকে স্মরণ করলেন ছাত্রদল সভাপতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনের দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

বৃহ্পিতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।

পোস্টে তিনি লিখেন, আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। আজ জুলাই আগষ্টের গণঅভ্যুত্থানে বীর শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করার দিন। আজ বিগত সাড়ে পনের বছর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অসংখ্য গুম-খুন-পঙ্গুত্বের শিকার নেতা-কর্মীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করার দিন। আজ মব কালচারের কবর রচনার দিন।

ছাত্রদল সভাপতি লিখেন, আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের রেখে যাওয়া আমানত রক্ষা করব, আজকের ঐতিহাসিক নির্বাচনকে ভোট উৎসবে রুপান্তরিত করব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করব, নতুন ধারার বাংলাদেশ এবং ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মানে আমরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করব ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, মাত্র দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাত্র দুই বছরের মাথায় আরো একটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মূলত বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। ওই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের তিনদিন পর, ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দল দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের দাবি তোলে। এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে গত বছরের জুনে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। এরপর নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে যায়।

২০২৫ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস ঘোষণা দেন, রমজানের আগে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবুও নির্বাচন আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সংশয় ছিল। অবশেষে ডিসেম্বর মাসে তফসিল ঘোষণা করা হয়। তবে তফসিল ঘোষণার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত প্রায় দুই দশকের নির্বাচনী অভিজ্ঞতায় ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। ফলে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে মাত্র তিনটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ছিল; ২০০১ সালের পরের নির্বাচনগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাই এই নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনও ভোটের আগের দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে একে দেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে ভোটারদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

তরুণ ভোটারদের ভূমিকা

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ তরুণ ভোটার প্রথমবার বা নতুন প্রজন্ম হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ফল নির্ধারণে তরুণ ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করবেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার।

২৯৯টি আসনে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। দলীয় প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী ৮৩ জন। তাদের ৬৩ জন দলীয় এবং ২০ জন স্বতন্ত্র। পুরুষ প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৯৪৬ জন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *