সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে এক চমকপ্রদ বাস্তবতা—বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলাতেই কোনো আসন পায়নি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)। দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও এসব জেলায় শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে দলটিকে।
ভৌগোলিক বিভাজনে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের ১০ জেলা, চট্টগ্রাম বিভাগের ৯ জেলা, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের ৪টি করে জেলা, রাজশাহী বিভাগের ২ জেলা এবং খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১টি করে জেলায় কোনো আসন জিততে পারেনি জামায়াত। এই জেলাগুলো হলো—কক্সবাজার, কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, জামালপুর, ঝালকাঠি, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নরসিংদী, নাটোর, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী, পঞ্চগড়, পার্বত্য খাগড়াছড়ি, পার্বত্য বান্দরবান, পার্বত্য রাঙ্গামাটি, ফেনী, বগুড়া, বরগুনা, বরিশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভোলা, মাগুরা, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রাজবাড়ী, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, শরীয়তপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ।
এই ৩৫ জেলাতেই রয়েছে মোট ১৩৯টি সংসদীয় আসন। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনসমৃদ্ধ অঞ্চলজুড়ে দলটি কোনো প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে জোটগতভাবে ফলাফল বিশ্লেষণ করলে চিত্র কিছুটা ভিন্ন—সে ক্ষেত্রে ৩১ জেলায় তারা আসনশূন্য, যেখানে মোট আসন সংখ্যা ১১৯।
অন্যদিকে, নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন জয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party) বা বিএনপিও পুরোপুরি নির্ভুল ছিল না। দলটি ৭ জেলায় কোনো আসনই জিততে পারেনি। রংপুর ও খুলনা বিভাগের ৩টি করে জেলা এবং রাজশাহী বিভাগের একটি জেলায় তাদের ভরাডুবি হয়েছে।
যেসব জেলায় বিএনপি কোনো আসন পায়নি, সেগুলো হলো—কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, রংপুর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর। এসব জেলায় রয়েছে মোট ২৫টি আসন।
রাজশাহী বিভাগে সামগ্রিকভাবে ভালো ফল করলেও একই বিভাগের একটি জেলায় একটিও আসন না পাওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের সার্বিক ফলাফলে বড় জয় সত্ত্বেও নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে এমন শূন্যতা দলীয় কৌশল ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।


