আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় মো. সাহাবুদ্দিন (Mohammad Shahabuddin) নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবারের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবন (Jatiya Sangsad Bhaban)-এর দক্ষিণ প্লাজায়। রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গুরুত্বে ভরপুর এই আয়োজন ঘিরে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মানিক মিয়া এভিনিউতে স্থাপিত এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। রাজধানীর বাইরে ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও বড় পর্দায় অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখানো হবে, যাতে দেশজুড়ে নাগরিকরা এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ ও সন্নিহিত এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার পর থেকে মানিক মিয়া এভিনিউতে যান চলাচল বন্ধ অথবা সীমিত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, “নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।” তিনি আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় যৌথভাবে শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করে।
এবারের আয়োজনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো—ঐতিহ্যগতভাবে শপথ অনুষ্ঠান যেখানে বঙ্গভবন (Bangabhaban)-এ হয়ে থাকে, সেখানে পরিবর্তন এনে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, পুরো শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করেছে।
এই নির্বাচনে তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) ৬৮টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলীয় নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন যে সংসদে তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের আবেদন করবেন।
রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন, তারপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর এই মুহূর্ত তাই শুধু সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং রাজনৈতিক বাস্তবতারও একটি দৃশ্যমান রূপ।


