শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন সংসদ ও মন্ত্রিসভা। তারেক রহমান (Tarique Rahman) নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party) সরকারের এই মন্ত্রী পরিষদে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ২৫ জন। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরও ২৪ জনকে। তবে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে একটি বিষয়—এই পরিষদে কাউকেই উপমন্ত্রী করা হয়নি।
নতুন সরকারের শপথ ও মন্ত্রী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুলনামূলক বিশ্লেষণ। কারণ অতীতের বিভিন্ন সরকারে উপমন্ত্রীর উপস্থিতি ছিল, আবার কিছু ক্ষেত্রে সেই পদ শূন্যও ছিল।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। সে সময় খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-র নেতৃত্বে গঠিত সরকারে তিনজন উপমন্ত্রী ছিলেন। অর্থাৎ তখন মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি উপমন্ত্রীর পদও সক্রিয় ছিল।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ (Awami League) নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন হলে তাদের মন্ত্রিসভায়ও দুজন উপমন্ত্রী নিয়োগ পান। তবে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন আসে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর। ওই সময় গঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারে কোনো উপমন্ত্রী রাখা হয়নি।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় আবারও উপমন্ত্রীর পদ ফিরে আসে—একজন উপমন্ত্রী দায়িত্ব পান। কিন্তু ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর টানা চতুর্থ দফায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও উপমন্ত্রীর পদে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভায়ও সেই ধারাবাহিকতাই বজায় থাকলো। পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়েই গঠিত হলো নতুন মন্ত্রী পরিষদ; উপমন্ত্রীর পদ থাকলো শূন্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে বিষয়টি এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ—মন্ত্রিসভার কাঠামোয় এই পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত, সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নানা মহলে।


