রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দুই পাশে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিনের কর্মসূচিতেই তিনি নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করেন এবং গাড়িবহরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনেন।
বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপি (BNP) চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী (Saleh Shibly)। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ির পরিবর্তে নিজের গাড়িতে চলাচল করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। “আজকের দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী সাভার ও শেরেবাংলা নগর গিয়েছিলেন নিজের টয়োটা গাড়িতে চড়ে। সেখান থেকে সচিবালয়ে তিনি এসেছেন একই গাড়িতে,” বলেন তিনি।
যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গাড়িবহর ছোট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শিবলী। তার ভাষ্য, আগে প্রধানমন্ত্রীর বহরে ১৩-১৪টি গাড়ি থাকত, যা কমিয়ে চারটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
শপথ নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান কিংবা বিদেশি অতিথিদের সফরের সময় তার গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের স্থান নিয়েও পরিবর্তনের কথা জানান সালেহ শিবলী। তিনি বলেন, এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়েই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হলে সচিবালয় থেকে মন্ত্রীদের যাতায়াতে যানজট তৈরি হয় এবং ভিআইপি চলাচলের সময় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সচিবালয়ে অধিকাংশ বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিন সকালে গুলশানের বাসা থেকে নিজের সাদা টয়োটা গাড়িতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দুই স্থানেই তার সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর সচিবালয়ে গিয়ে তিনি মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে অংশ নেন।


