শপথ নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসেই এক আবেগঘন অনুভূতি ভাগ করে নিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন (Farzana Sharmin) পুতুল। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মনের গভীর কথাগুলো প্রকাশ করেন। পোস্টের সঙ্গে যুক্ত করেন একটি ছবিও—যা যেন তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য সেতুবন্ধন।
বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘আজ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন। দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে যে অফিসে বসে আব্বু দেশের জন্য কাজ করেছিলেন, আজ আমি সেই একই অফিসে বসে দেশের জন্য কাজ করতে যাচ্ছি।’ কথাগুলোতে ছিল দায়িত্ববোধের পাশাপাশি এক গভীর আবেগের অনুরণন।
প্রতিমন্ত্রী আরও লেখেন, ‘দিন-রাতে এমন কোনো মুহূর্ত নেই যখন আমার বাবা আমার সঙ্গে থাকেন না।’ অফিসকক্ষে বসে পাশের বোর্ডের ৬ নম্বর তালিকায় বাবার নামের দিকে যতবার চোখ গেছে, ততবারই তার মনে হয়েছে—আব্বু যেন বলছেন, ‘আমি তোমার জন্য এখানে অপেক্ষা করছিলাম।’ একটি রাজনৈতিক উত্তরাধিকার যে কখনো কখনো ব্যক্তিগত স্মৃতি আর প্রেরণার সঙ্গে মিশে যায়, তারই যেন প্রতিচ্ছবি এই বার্তা।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে দায়িত্ব পাওয়া অন্তত সাতজন প্রতিমন্ত্রী বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন। তাদেরই একজন নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফারজানা শারমিন। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটল (Fazlur Rahman Potol)-এর মেয়ে।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে ফজলুর রহমান পটল যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ১৯৯৩ সালে তিনি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলান তিনি। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া পটল দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট মারা যান।
পিতার সেই আসন থেকেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১ লাখ ২ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারজানা শারমিন। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই পেয়েছেন সেই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব—যে অফিসকক্ষে একসময় তার বাবাও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সময়ের ব্যবধানে বদলেছে প্রজন্ম, কিন্তু একই টেবিল-চেয়ারে বসে দেশের সেবার অঙ্গীকার যেন নতুন করে ফিরে এসেছে পরিবারের ভেতরেই।


