সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি ও অফিস ত্যাগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রশাসন) কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, আইন ও বিচার বিভাগে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ কঠোরভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। বিধিমালার আলোকে কয়েকটি কর্মকাণ্ডকে সরাসরি অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
(ক) পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা;
(খ) অনুমতি ব্যতিরেকে অফিস ত্যাগ করা;
(গ) নির্ধারিত সময়ের পরে অফিসে উপস্থিত হওয়া।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কর্মদিবসে সকাল ৯টার মধ্যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত থাকতে হবে। সময়ানুবর্তিতার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শনের সুযোগ রাখা হয়নি।
এছাড়া অফিস সময় শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থল ত্যাগের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজানে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটের আগে এবং রমজানের পর বিকেল ৫টার আগে কেউ অফিস ত্যাগ করতে পারবেন না। অর্থাৎ নির্ধারিত অফিস সময় পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
অফিস চলাকালে যদি দাপ্তরিক বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের প্রধান—যুগ্ম সচিব বা সলিসিটরের পূর্বানুমতি নিতে হবে। শুধু মৌখিক অনুমতিই যথেষ্ট নয়; সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর তফসিল অনুযায়ী সংরক্ষিত ‘অফিস ত্যাগের রেজিস্টার’-এ যথাযথ এন্ট্রি দিতে হবে এবং ডিজিটাল হাজিরাও নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অফিস ত্যাগকে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হবে।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেউ যদি নির্দেশনা অমান্য করে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকেন, আগেভাগে অফিস ত্যাগ করেন অথবা নির্ধারিত সময়ের পরে উপস্থিত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনায় পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে—নিয়মিত উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন আর কোনো ঢিলেমি মেনে নিতে রাজি নয়।


