ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী সমন্বয় সভা ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP) আয়োজিত ওই সভায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণের সামনে অবস্থিত ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী রাশেদ খানের নির্বাচনী কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রাশেদ খান, যিনি আগে গণঅধিকার পরিষদ (Gono Odhikar Parishad)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়ে এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—এএসআই জাহিদ, কনস্টেবল পিকুল ও কনস্টেবল সেলিম। তাদের মধ্যে দুইজনকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ-৪ আসনে দলীয় কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে একটি সমন্বয় সভা আহ্বান করেন রাশেদ খান। সভায় মহারাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল প্রার্থী রাশেদ খানের।
তবে সভার একপর্যায়ে মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের বিরুদ্ধে ধানের শীষের বিপক্ষে ভোট করার অভিযোগ তোলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাজাহান আলী। অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। কথার লড়াই থেকে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা, যা একসময় হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, একটি পক্ষ কালীগঞ্জ থানা চত্বরে ঢুকে পড়ে। তাদের পিছু নিয়ে অপর পক্ষও থানার ভেতরে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় দুই পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
ঘটনার বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, তিনি কালীগঞ্জে এসেছেন শুনে অনেক নেতাকর্মী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কার্যালয়ে আসেন। সেখানেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তিনি উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, থানার সামনেই ঝিনাইদহ-৪ আসনের ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যালয়ে বিএনপির সমন্বয় সভা চলছিল। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে একটি পক্ষ থানায় প্রবেশ করলে অপর পক্ষও সেখানে ঢুকে হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।


