দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক—এমন সরাসরি স্বীকারোক্তি দিয়ে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ট্যাক্স বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury)। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম (Chattogram)-এর পতেঙ্গায় একটি হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অর্থনীতি খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি জানান, আসন্ন বাজেটে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। “আগামী বাজেটে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য যা যা করা দরকার, তাই করা হবে”—এভাবেই সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। তাই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, “দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান তৈরী হবে না। আমরা জোর দিচ্ছি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর।”
অর্থমন্ত্রী মনে করেন, শুধু বিনিয়োগ নয়—স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতেও পরিবর্তন আনতে হবে। তবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে কর্মসংস্থান। কারণ কর্মসংস্থানই অর্থনীতিকে চাঙা করার প্রধান চালিকাশক্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, এ অঞ্চলে বর্তমানে কোনো হাসপাতাল নেই, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ। এই প্রেক্ষাপটে সেখানে একটি জেনারেল হাসপাতালের পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং টেকনোলজি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন। সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।


