ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার প্রভাব: স্থগিত ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণে কড়া নজরদারিতে সরকার

ইরান-ইসরাইল পরিস্থিতির অস্থিরতার জেরে মধ্যপ্রাচ্যগামী একাধিক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার পর সেগুলো পুনর্নির্ধারণে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত (M. Rashiduzzaman Millat)। তিনি বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো এবং পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করে ফ্লাইট পরিচালনাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Hazrat Shahjalal International Airport)-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৫৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। এসব ফ্লাইটের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে চলাচল করত, ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (Biman Bangladesh Airlines)-এর কয়েকটি ফ্লাইটও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তিনি জানান, সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আজ থেকে পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল যেসব ফ্লাইট স্থগিত ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করতে সরকার একাধিক দপ্তরের সঙ্গে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (Civil Aviation Authority of Bangladesh)-এর চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি।” তার আশা, স্থগিত হওয়া সব ফ্লাইটের যাত্রীদের আগামী সোমবারের মধ্যে নিজ নিজ গন্তব্যে পাঠানো সম্ভব হবে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে যেসব যাত্রী নির্ধারিত সময়ে বিদেশগামী ফ্লাইটে উঠতে পারেননি, তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি বিষয়টি তদারকি করছেন এবং ইফতারসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমরা যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করেছি।”

তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের টানাপোড়েন যে কোনো সময় নতুন মোড় নিতে পারে—এমন আশঙ্কা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি চলছে। এজন্য যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইন বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ফ্লাইট সূচি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান মিল্লাত।

তিনি আরও বলেন, ফ্লাইটগুলো এমনভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে যাতে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীরাও পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেন। হঠাৎ পরিবর্তনে কেউ যেন নতুন করে বিপাকে না পড়েন, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

সবশেষে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “আমরা আশা করি সংঘাত আর বাড়বে না। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে। তবে যদি অবনতি ঘটে, তাহলে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *